বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ৬৮ লাখ ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ জুন ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:৩৮ আপডেট: ০১:৫৪

বিশ্বে করোনা আক্রান্ত ৬৮ লাখ ছাড়াল

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) স্তব্ধ গোটা বিশ্ব। মহামারি মোকাবিলায় দেশে দেশে চলছে লকডাউন, জরুরি অবস্থাসহ নানা বিধি নিষেধ। ইতিমধ্যে এতে পুরো দুনিয়া বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরে করোনা ভাইরাস  ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এরপর চারমাস পেরোলেও নিয়ন্ত্রণের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারে উঠে পড়ে লেগেছেন বিজ্ঞানীরা। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬৮ লাখ, মারা গেছে প্রায় ৪ লাখ, আর সুস্থ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৩ লাখ।

মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৪০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫২৯ জন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ২৫৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৯৬০ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৩২৩ জন। 

বিশ্বে বর্তমানে ৩১ লাখ ১ হাজার ৭৬১ জন শনাক্ত করোনা রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৩ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর বাকি ৫৩ হাজার ৬১৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটিতে বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৮, সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৬, মারা গেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৯০ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। 

আর যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- ব্রাজিলে আক্রান্ত ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬, সুস্থ হয়েছে ৩ লাখ ২ হাজার ৮৪, মারা গেছে ৩৫ হাজার ৪৭ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৪, সুস্থ হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬৮০, মারা গেছে ৫ হাজার ৫২৮ জন। স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৬, মারা গেছে ২৭ হাজার ১৩৪ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২ লাখ ৮৩ হাজার ৩১১, সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ২২৮, মারা গেছে ৪০ হাজার ২৬১ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩১, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৮১, মারা গেছে ৩৩ হাজার ৭৭৪ জন। পেরুতে আক্রান্ত ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০, সুস্থ হয়েছে ৭৯ হাজার ২১৪, মারা গেছে ৫ হাজার ১৬২ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪১৪, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০, মারা গেছে ৮ হাজার ৭৬৩ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪০, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০, মারা গেছে ৪ হাজার ৪৬৮ জন। ইরানে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৫৬, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪১, মারা গেছে ৮ হাজার ১৩৪ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫, সুস্থ হয়েছে ৭০ হাজার ৫০৪, মারা গেছে ২৯ হাজার ১১১ জন। চিলিতে আক্রান্ত ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯, সুস্থ হয়েছে ৯৫ হাজার ৬৩১, মারা গেছে ১ হাজার ৪৪৮ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ১ লাখ ১০ হাজার ২৬, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ৫৯০, মারা গেছে ১৩ হাজার ১৭০ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৯৪ হাজার ৩৩৫, সুস্থ হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬৮, মারা গেছে ৭ হাজার ৭০৩ জন। 
  
এদিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮৩ হাজার ৩০, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ৩২৯, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫৮ হাজার ৯০৭, সুস্থ হয়েছে ১৬ হাজার ১১২, মারা গেছে ৯ হাজার ৫৬৬ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪৭ হাজার ১৫২, সুস্থ হয়েছে ১৮১, মারা গেছে ৬ হাজার ৫ জন। 

অন্যদিকে, সুইডেনে আক্রান্ত ৪২ হাজার ৯৩৯, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৯ জন। ইকুয়েডরে আক্রান্ত ৪১ হাজার ৫৭৫, সুস্থ হয়েছে ২০ হাজার ৫৬৮, মারা গেছে ৩ হাজার ৫৩৪ জন। কলম্বিয়ায় আক্রান্ত ৩৬ হাজার ৬৩৫, সুস্থ হয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৮, মারা গেছে ১ হাজার ১৪৫ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ৩৩ হাজার ৯৬৯, সুস্থ হয়েছে ২০ হাজার ৫২৬, মারা গেছে ১ হাজার ৪৬৫ জন। মিশরে আক্রান্ত ৩১ হাজার ১১৫, সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ১৫৮, মারা গেছে ১ হাজার ১৬৬ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৯৩৬, সুস্থ হয়েছে ২৮ হাজার ৬০০, মারা গেছে ১ হাজার ৯২১ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ২৯ হাজার ৫২১, সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৪৪৩, মারা গেছে ১ হাজার ৭৭০ জন। পোলান্ডে আক্রান্ত ২৫ হাজার ৪১০, সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ৪১০, মারা গেছে ১ হাজার ৩৭১ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৫ হাজার ১৬৩, সুস্থ হয়েছে ২২ হাজার ৬৯৮, মারা গেছে ১ হাজার ৬৭০ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত ২০ হাজার ১০৩, সুস্থ হয়েছে ১৪ হাজার ১৪৫, মারা গেছে ১ হাজার ৩১৬ জন।
 
এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮১, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৩৩, মারা গেছে ৬ হাজার ৬৪৯ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৯৩ হাজার ৯৮৩, সুস্থ হয়েছে ৩২ হাজার ৫৮১, মারা গেছে ১ হাজার ৯৩৫ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৬০ হাজার ৩৯১, সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ৮০৪, মারা গেছে ৮১১ জন।
 
প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads