বিশ্বে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ মে ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৩:১৫ আপডেট: ০৩:১৫

বিশ্বে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে স্তব্ধ গোটা বিশ্ব। মহামারি মোকাবিলায় দেশে দেশে চলছে লকডাউন, জরুরি অবস্থাসহ নানা বিধি নিষেধ। ইতিমধ্যে এতে পুরো দুনিয়া বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এরপর চারমাস পেরোলেও নিয়ন্ত্রণের কোনও লক্ষণ নেই। যদিও এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারে উঠে পড়ে লেগেছেন বিজ্ঞানীরা। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ লাখ, এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। মারা গেছে ৩ লাখ ৬২ হাজার, আর সুস্থ হয়েছে প্রায় ২৬ লাখ।

মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৫৯ লাখ ৯ হাজার ৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩০৪ জন। যা একদিনে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১৪৪ জনের।এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২৫ লাখ ৮১ হাজার ৯৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৮২ হাজার ৩৯৪ জন। 

এই মুহূর্তে বিশ্বে ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭১ জন করোনা শনাক্ত রোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ লাখ ১০ হাজার ৯৯৯ জন চিকিৎসাধীন, যাদের অবস্থা স্থিতিশীল। আর বাকি ৫৩ হাজার ৯৭২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছে।

ভাইরাসটি চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ১৭ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬১, সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৫, মারা গেছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৩০ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু এবং আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে। 

আর যেসব দেশে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে, সেগুলো হলো- ব্রাজিলে আক্রান্ত ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৮১২, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৮১, মারা গেছে ২৬ হাজার ৭৬৪ জন। রাশিয়ায় আক্রান্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৫১, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৩, মারা গেছে ৪ হাজার ১৪২ জন। স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৬, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫৮, মারা গেছে ২৭ হাজার ১১৯ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত ২ লাখ ৬৯ হাজার ১২৭, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৩৭ হাজার ৮৩৭ জন। ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬০৪, মারা গেছে ৩৩ হাজার ১৪২ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮, সুস্থ হয়েছে ৬৭ হাজার ৯১, মারা গেছে ২৮ হাজার ৬৬২ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৫২, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২০০, মারা গেছে ৮ হাজার ৫৭০ জন। তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৯, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৬৯, মারা গেছে ৪ হাজার ৪৬১ জন। ইরানে আক্রান্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৯, সুস্থ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৮৮, মারা গেছে ৭ হাজার ৬২৭ জন। পেরুতে আক্রান্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৯, সুস্থ হয়েছে ৫৯ হাজার ৪৪২, মারা গেছে ৪ হাজার ৯৯ জন। কানাডাতে আক্রান্ত ৮৮ হাজার ৫১২, সুস্থ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮৪০, মারা গেছে ৬ হাজার ৮৭৭ জন।
  
এ দিকে, করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে আক্রান্ত ৮২ হাজার ৯৯৫, সুস্থ হয়েছে ৭৮ হাজার ২৯১, মারা গেছে ৪ হাজার ৬৩৪ জন। মেক্সিকোতে আক্রান্ত ৮১ হাজার ৪০০, সুস্থ হয়েছে ৫৬ হাজার ৬৩৮, মারা গেছে ৯ হাজার ৪৪ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত ৫৭ হাজার ৮৪৯, সুস্থ হয়েছে ১৫ হাজার ৫৭২, মারা গেছে ৯ হাজার ৩৮৮ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্ত ৪৫ হাজার ৯৫০, সেখানে কর্তৃপক্ষ সুস্থতার সংখ্যা প্রকাশ করেনি, মারা গেছে ৫ হাজার ৯০৩ জন। 

অন্যদিকে, ইকুয়েডরে আক্রান্ত ৩৮ হাজার ৪৭১, সুস্থ হয়েছে ১৮ হাজার ৪২৫, মারা গেছে ৩ হাজার ৩১৩ জন। সুইডেনে আক্রান্ত ৩৫ হাজার ৭২৭, সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১, মারা গেছে ৪ হাজার ২৬৬ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত ৩১ হাজার ৫৯৬, সুস্থ হয়েছে ১৮ হাজার ৬৩৭, মারা গেছে ১ হাজার ৩৬৯ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৭৯৬, সুস্থ হয়েছে ২৮ হাজার ৩০০, মারা গেছে ১ হাজার ৯১৯ জন। আয়ারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৪ হাজার ৮৪১, সুস্থ হয়েছে ২২ হাজার ৮৯, মারা গেছে ১ হাজার ৬৩৯ জন। ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ২৪ হাজার ৫৩৮, সুস্থ হয়েছে ৬ হাজার ২৪০, মারা গেছে ১ হাজার ৪৯৬ জন। পোলান্ডে আক্রান্ত ২২ হাজার ৮২৫, সুস্থ হয়েছে ১০ হাজার ৫৬০, মারা গেছে ১ হাজার ৩৮ জন। রোমানিয়ায় আক্রান্ত ১৮ হাজার ৭৯১, সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ৬২৯, মারা গেছে ১ হাজার ২৩৫ জন।
 
এ ছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৯৯, সুস্থ হয়েছে ৭১ হাজার ১০৬, মারা গেছে ৪ হাজার ৭১১ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত ৬৪ হাজার ২৮, সুস্থ হয়েছে ২২ হাজার ৩০৫, মারা গেছে ১ হাজার ৩১৭ জন। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৪০ হাজার ৩২১, সুস্থ হয়েছে ৮ হাজার ৪২৫, মারা গেছে ৫৫৯ জন।
 
প্রসঙ্গত, এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, বারবার কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া। তাই এগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাইরে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads