করোনা মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ায় বেকার ভাতা দ্বিগুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৩:১৫ আপডেট: ০৩:১৬

করোনা মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ায় বেকার ভাতা দ্বিগুণ

অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। গত দুই দিনে নতুন করে ৪৩১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

অন্যদিকে, শাটডাউন না লকডাউন, স্কুল খোলা থাকবে কি না, আজকে না কালকে—এ নিয়ে ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলোর মধ্যে কিছুটা সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। 

প্রাথমিক অবস্থায় ৫০০ জনের ওপরে গণজমায়েত বন্ধ দিয়ে সরকার এখন দূরত্ব বজায় রেখে বিয়েতে ৫ জন, দাফন-কাফনে ১০ জনের উপস্থিতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। অপরিহার্য নয় এমন ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে ক্রমেই পুরোপুরি লকডাউনের দিকে যাচ্ছে দেশ। এক পরিসংখ্যান বলছে, সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলে আপাতত প্রায় ১০ লাখ লোক চাকরি হারাবেন এবং জুন মাস নাগাদ এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫ লাখে।

এই অবস্থায় ৮ হাজার ৩৬০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রণোদনা বাজেটের আওতায় বেকার ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। সাধারণত একজন অস্ট্রেলিয়ান বেকার নাগরিক প্রতি দুই সপ্তাহে সরকার থেকে সাড়ে ৫০০ ডলারের মতো ভাতা পান। এ টাকা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপটে একজন বেকার নাগরিক খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতে পারেন। এখন এই দুর্যোগের সময় আগামী ছয় মাসের জন্য বেকার ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। 

এ ছাড়া সোল ট্রেডার ও কাজ্যুয়াল কর্মী, যাঁরা বর্তমানে প্রতি ১৫ দিনে ১ হাজার ৭৫ ডলারের কম উপার্জন করেন, তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া বয়স্ক, শারীরিক প্রতিবন্ধী, নিম্ন আয়ের যেসব অভিভাবক শিশু অথবা স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের লালন পালন করেন, তাঁদের নিয়মিত ভাতার সঙ্গে অতিরিক্ত ভাতা হিসেবে এককালীন ৭৫০ ডলার দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০২০ ও ২০২১ এই দুই বছর নিজের সুপারএ্যানুয়েশন ফান্ড থেকে ১০ হাজার ডলার করে তুলতে পারবেন তাঁরা।

ভাতা পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান সংস্থা সেন্টার লিংকে যাঁরা ইতিমধ্যে তালিকাবদ্ধ আছেন, তাঁদের নতুন করে আর তালিকাবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যরা ব্যক্তিগতভাবে অথবা অনলাইনে তালিকাবদ্ধ হতে পারবেন। এ ছাড়া বিদেশি কর্মী যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করছেন, তাঁদেরও এককালীন কিছু ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে সরকার। তা ছাড়া প্রায় ৭ লাখ ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর ব্যবসা চালু রাখতে কর্মচারীদের বেতন দিতে কিছু ট্যাক্স ফ্রি নগদ প্রণোদনা ও সহজ ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

করোনা ভাইরাস ঘিরে মহামারির পাশাপাশি এই অর্থনৈতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির ফেডারেল সরকার, রাজ্য সরকার, বিরোধী দল এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থা একযোগে কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৈঠক করেছে রাজ্য সরকারগুলো ও বিরোধী দলের সঙ্গে। বিরোধী দলের মুখপাত্র এই করোনা যুদ্ধ সামাল দিতে ইতিমধ্যে সরকারকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা দিয়েছেন। জনগণের জন্য রাজ্য সরকারগুলোর প্রণোদনার পাশাপাশি ফেডারেল সরকার ইতিমধ্যে দুই দফায় ৮ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের প্রণোদনা বাজেট ঘোষণা করেছে।

এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৪৩১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১ হাজার ২৯৫ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৮ হাজার ৮ জন। 
 
বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৩৩১ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৪২ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৮৫ জন। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩১ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৩৯ জনের অবস্থা সাধারণ। ১৪ হাজার ৭৯২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 
 
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
 
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
 
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
 
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads