ব্রিটেন করোনা শনাক্তের কিট ঘরে ঘরে পাঠাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১১:৩৫ আপডেট: ১১:৩৫

ব্রিটেন করোনা শনাক্তের কিট ঘরে ঘরে পাঠাবে

ব্রিটিশ সরকার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ঘরে রোগ শনাক্তের কিট পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড (পিএইচই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পিএইচই বলছে, প্রথম দফায় কয়েক হাজার টেস্ট কিট পাঠানো হবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ব্রিটিশ গণমাধ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই টেস্ট কিট দিয়ে বাড়িতে বসে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করা যাবে। এর জন্য ১৫ মিনিট সময় লাগবে। মূলত যেসব ব্যক্তিরা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আইসোলেশনে আছেন, তাদের বাড়িতে এসব টেস্ট কিট পাঠানো হবে।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনফেকশন সার্ভিসের পরিচালক অধ্যাপক শ্যারন পিকক বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে এই গণপরীক্ষা করা সম্ভব হবে। প্রাথমিকভাবে আমাজনের মাধ্যমে সন্দেভাজন আক্রান্তদের ঘরে ঘরে এই কিট পাঠানো হবে। এই কিট সঠিকভাবে কাজ করবে কি না সেটি বোঝার জন্যই এভাবে পাঠানো হবে।

শ্যারন পিকক আরও বলেছেন, এটি এক ধরনের অ্যান্টিবডি টেস্ট। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশও নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে এই পরীক্ষা করছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার ৩৫ লাখ এমন টেস্ট কিট কিনেছে। আরও কয়েক মিলিয়ন টেস্ট কিট কেনার প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খুব দ্রুতই জনসাধারণের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টেস্ট কিট এক ধরনের ছোট আকারের যন্ত্র। এর একটি স্থানে আঙুল দিলে, তা থেকে রক্ত গ্রহণ করা হয় এবং পরে তা ওই কিটেই বিশ্লেষণ করা হয়। স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা এটি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই এই কিট সব স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সেদেশে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

উল্লেখ্য, চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ জন। এ নিয়ে করোনা ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১ হাজার ২৯৫ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৮ হাজার ৮ জন। 
 
বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৩৩১ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৬৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৪২ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ২৮৫ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ১৮৫ জন। 

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩১ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৩৯ জনের অবস্থা সাধারণ। ১৪ হাজার ৭৯২ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।
 
এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়। 
 
করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।
 
এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।
 
উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
 
চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads