ভারত কি করোনা টিকার চাহিদা পূরণে সক্ষম?

ভারত ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:০৭ আপডেট: ০৮:২৫

ভারত কি করোনা টিকার চাহিদা পূরণে সক্ষম?

বিশ্বে গণিতের চক্রবৃদ্ধি হারের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে করোনায় মৃত্যু। পৃথিবীর প্রভাবশালী দেশও মাথা নুয়ে পড়ছে করোনা মোকাবিলায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীর এত উন্নতি সাধনের পরও করোনা বিস্তার ঠেকানোর কোনও পথ ও পন্থা এখনও কেউ আবিষ্কার করতে পারেনি। করোনা নির্মূলে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হওয়ার পরও একেক পক্ষ থেকে একেক মত দেয়া হচ্ছে। কিন্তু নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছে না- কিভাবে করোনা মহামারি দূর হবে। 

পৃথিবীর এমন সংকট মুহূর্তে এশিয়ার দেশ ভারত নিয়েছে বিশাল উদ্যোগ।  তারা সাত মাসের মধ্যে অন্তত ৬০ কোটি নাগরিককে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। সেই অনুসারে প্রতিমাসে টিকা পাবেন দেশটির সাড়ে ৮ কোটি নাগরিক।

উদ্ভাবক বিদেশি সংস্থার লাইসেন্স নিয়ে বিশ্বের ৬০ শতাংশ টিকা উৎপাদনে এগিয়ে আছে ভারত। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জনসংখ্যার দেশটি করোনা ভাইরাস সংক্রমিতের সংখ্যাতেও দ্বিতীয়। তবে শুধু নিজের নয়, বিশ্বের চাহিদা পূরণেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ  এশিয়ার বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশটি। এ অঙ্গীকার পূরণের উপর নির্ভর করবে দেশটির ভাবমূর্তি।

ভারতীয় উদপাদকেরা কী এসব চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে- সঙ্গত কারণেই তাই এমন প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে?

এই মুহূর্তে ভারতে অনুমোদন পেয়েছে দুটি সংস্থার টিকা। এর একটি হচ্ছে অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত। উৎপাদক সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউড এটি কোভিশিল্ড নামে বাজারজাত করছে। অন্যটি হচ্ছে, স্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক ভারত বায়োটেকের কোভাক্সিন। তবে অনুমোদন পেলেও সেটি দেওয়া হয়েছে তৃতীয় ট্রায়ালের লক্ষ্যে। কারণ, এটি সবগুলো ধাপের পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি। ভারতে আরও বেশকিছু টিকার ট্রায়াল চলছে, আর রয়েছে সেগুলো স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের লক্ষ্য। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা সংবাদ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকেরা যুক্ত করেছে নতুন নতুন অবকাঠামো। অনেকক্ষেত্রে, জরুরি নয় এমন ওষুধের কারখানাকে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপান্তর করাও হচ্ছে। 

দেশটির সবচেয়ে বড় উৎপাদক সেরাম ইনস্টিটিউড অব ইন্ডিয়া ব্জানিয়েছে, তারা এখন প্রতিমাসে ৬ থেকে ৭ কোটি ডোজ উৎপাদন করতে পারবে।

অনুমোদন পাওয়া আরেক সংস্থা ভারত বায়োটেকের দাবি, তারা বার্ষিক ২০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্যস্থির করেছে। যদিও, বর্তমানে সংস্থাটির কাছে কেবল ২ কোটি ডোজ কোভাক্সিন আছে, এবং তৃতীয় ট্রায়াল শেষ হওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যমান চালানেরও ব্যাপক প্রয়োগ সম্ভব নয়।

অন্য যেসব কোম্পানির প্রার্থী টিকার ট্রায়াল চলমান রয়েছে, সেসব সংস্থা ভারতীয় ওষুধ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদনের জন্য তৈরি হলে সেগুলো অন্যদেশে রপ্তানির চেষ্টাও করছে সংস্থাগুলো।

ভারত সরকার বলেছে যে, তারা জুলাইয়ের শেষদিকে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা ৩০ কোটি নাগরিককে টিকা দেবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি; বৈশ্বিক প্রবণতার অনুকরণে প্রাধান্য পাচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্মীসহ সম্মুখভাগে থাকা অন্যান্য জরুরি সেবাদাতারা। 

এঅবস্থায় ভারতের বৃহত্তম প্রস্তুতকারক সেরাম বলছে, তারা ৫ কোটি ডোজের মান পরীক্ষা সম্পন্ন করে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রেখেছে। অর্থাৎ, টিকাদানের মাসিক লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংস্থাটির এযাবৎ উৎপাদিত সংখ্যায় একটি বড় অসামঞ্জস্য রয়েছে। আর সেরাম ভারতের অন্যান্য টিকা উদ্যোগের চাইতে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও সফল প্রতিষেধক সরবরাহ করার ক্ষমতা রাখে। 

সংস্থাটির মুখ্য নির্বাহীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে এনিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন যে, ভারত সরকার রপ্তানি করা যাবে না এই শর্তে তাদের উৎপাদিত এবং অক্সফোর্ড আবিষ্কৃত টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। 

এনিয়ে বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ভারত সরকার এক বিবৃতিতে টিকা রপ্তানির ব্যাপারে আশ্বস্ত করে। বাংলাদেশ সেরাম থেকে প্রথম ধাপে তিন কোটি ডোজ কেনার চুক্তি করেছে। এবং ইতোমধ্যেই পরিশোধ করেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। 

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads