ভারত-চীন সংঘাতে লাভ হচ্ছে কার?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ জুলাই ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:৫৯ আপডেট: ১২:০২

ভারত-চীন সংঘাতে লাভ হচ্ছে কার?

ভারতও চীনের মতোই যুদ্ধের হিসাব করে লাভ-ক্ষতি দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রও সেটাই করে। যুদ্ধ জনগণের মতামত পক্ষে আনতে সাহায্য করে এবং জনগণকে উজ্জীবিত করে। যেটা আশা করা হয়, সেটা হলো আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের তৎপরতার বাড়ানোর মাধ্যমে একটা জাতীয় উদ্দেশ্য হাসিল করা, যার মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাজার শেয়ারের বিষয়টিও রয়েছে।

চীন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রটাতে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের এবং শেষ পর্যায়ে বৈশ্বিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাদের। এর অর্থ হলো চীন একটা ইঙ্গিতের ব্যবসায়ের মধ্যে আছে। চূড়ান্ত যে ভোক্তাকে চীন হাতে আনতে চায়, সেটা হলো পশ্চিমা বিশ্ব। ভারতের বিরুদ্ধে কি করতে পারে, সেটা দেখানোর মাধ্যমে পশ্চিমাদের সেটাই দেখাতে চাচ্ছে চীন। 

পশ্চিমাদের জন্য চীনকে নিয়ন্ত্রণ করা একটা বড় লক্ষ্য। সে কারণে অভিন্ন শ্রেষ্ঠত্বের প্রস্তাবটা তারা অনেক বেশি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। এখন যেটা হচ্ছে, সেটা হলো প্রক্সি সংঘাতের মাধ্যমে দর কষাকষি। এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রে যুদ্ধের চেয়ে শান্তিকে এখন তুলনামূলক কম ফলদায়ক ভাবা হচ্ছে। 

বড় ধরনের যুদ্ধগুলো থেকে খুব একটা ফল পাওয়া যায় না, ফল পাওয়া যায় হুমকি আর ছোট-খাটো সংঘাত থেকে। মেগা যুদ্ধগুলো ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় কারণ এখানে পারমাণবিকীকরণসহ বেশ কিছু ফ্যাক্টর জড়িত। সে কারণে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ মোটেই কাজ করেনি এবং ভিয়েতনামেও চীনের যুদ্ধ থেকে তেমন কোন অর্জন হয়নি। সে কারণে দূর থেকে ছোট-খোটো সংঘাত, যাতে চামড়া পুড়বে না, তেমনটাই এখন সবার পছন্দ। 

ভারত এখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি এবং ভারতকে আঘাতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করছে চীন। ভারত চীনের প্রধান শত্রু নয় কারণ ভারতের বিরুদ্ধে কোন বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধে তারা লড়ছে না, লড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ভারত এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে গেছে এবং এ থেকে বের হতে পারছে না। বৈশ্বিক সংঘাতগুলো এখন চীন-ভারত সীমান্তের সংঘাতের মতো লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই পার করা হচ্ছে। 

ব্রেকিংনিউজ/অমৃ

bnbd-ads