উত্তেজনা নিরসনে ভারতের ডাক, চীনের সম্মতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৮:৫১ আপডেট: ০৮:৫১

উত্তেজনা নিরসনে ভারতের ডাক, চীনের সম্মতি

লাদাখ সীমান্তে নিজেদের মধ্যে ক্রমশ বেড়ে চলা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারতের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রাস্তাব দেওয়া হয়েছে চীনকে। এতে চীন সম্মতি দেওয়ায় শনিবার (৬ জুন) দুই দেশের মধ্যে সেনা পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লাদাখে সৃষ্ট সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এমনটাই জানিয়েছে এক প্রতিবেদনে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশই পূর্ব লাদাখে অতিরিক্ত বাহিনী, সামরিক যান ও প্রচুর অস্ত্রসম্ভার পাঠিয়েছে। এর মধ্যেই গত ৫ মে সন্ধ্যায় প্রায় ২৫০ ভারতীয় ও চীনা সেনা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। পরে গত ৯ মে উত্তর সিকিমেও একই রকম ঘটনা ঘটে।  গত কয়েকদিন ধরেই লাদাখ সীমান্তে সেনা তৎপরতা বাড়িয়েছে উভয় দেশ। এরপর শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে দিল্লির তরফ থেকে বেইজিং-এর কাছে আলোচনার অনুরোধ জানানো হলে চীন ভারতের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী ভারতের অন্তর্গত চুশুল-মোলদো এলাকায় এই বৈঠক হবে। বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। দুই দেশের আলোচনার টেবিলে বসার সম্মতিকে ইতিবাচক লক্ষণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে মঙ্গলবার (২ জুন) সিএনএন নিউজ ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পূর্ব লাদাখে চীনা সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।  একইসঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিল্লি যাবতীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রাজনাথ সিং।

রাজনাথ সিংয়ের দাবি, চীন ওই এলাকাকে নিজেদের দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ভারতীয় ভূখণ্ড। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ৬ জুন চীন ও ভারতীয় বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে মিলিত হবেন। তবে নিজের অবস্থান থেকে কোনোভাবেই পিছু হটবে না দিল্লি।

রাজনাথ সিং আরও বলেন, ‘বেশকিছু চীনা সেনা ওই এলাকায় ঢুকে পড়েছে। ভারতের যা করা উচিত ছিল, তা-ই করেছে।’ সমস্যা সমাধানের জন্য চীনকে পরিস্থিতি গভীরভাবে বিবেচনার পরামর্শ দেন ভারতীয় মন্ত্রী।

এর আগে লাদাখ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার স্থানীয় স্তরে কথা হয়েছে। তবে কোনও বৈঠকেই ফলপ্রসু কিছু উঠে আসেনি। ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে এত গুরুতর সংঘাতমূলক পরিস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি।

২০১৭ সালে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল ভারত ও চীনের মধ্যে। ভূটানের ডোকলামে ত্রিদেশীয় সীমান্তে এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল দুই দেশের বাহিনী। সেবার কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার মাধ্যমে বিতর্কের অবসান ঘটেছিল। দিল্লির প্রত্যাশা এবারও সেই পথেই সংকট উত্তরণ ঘটতে পারে। 

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads