যে ৫ কারণে দিল্লিতে বিজেপির ভরাডুবি, কেজরিওয়ালের কিস্তিমাত

ভারত ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ আপডেট: ০১:২১

যে ৫ কারণে দিল্লিতে বিজেপির ভরাডুবি, কেজরিওয়ালের কিস্তিমাত

দিল্লিতে আরও একবার খেইল দেখালেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। আম আদমী পার্টির (আপ) এই বর্ষীয়ান নেতার কাছে পুরোপুর নাস্তানাবুদ হয়ে গেছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। ফলে টানা তিনবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে যাচ্ছেন ‘মাফলার ম্যান’ খ্যাত কেজরিওয়াল। 

আম আদমী পার্টির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। এর পর সবাইকে অবাক করে কংগ্রেস ও বিজেপির মতো দলকে টেক্কা মেরে দিল্লির মসনদ নিজেদের করে নেয় নতুন এই দলটি। যার ফলে টানা ২০ বছর ধরে বিজেপির দিল্লি দখলের লড়াই এবার শেষ হলো না। অন্যদিকে আপ নেতারা বলছেন, জনগণের জন্য কাজ করেছেন বলেই জনগণ তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। 

তবে দিল্লিতে বিজেপির ভরাডুবির কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে নানামুখি বিশ্লেষণ চলছে। 

এ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্য জি নিউজ আপের বিজয় ও বিজেপির পরাজয়ের ৫টি কারণ তুলে ধরেছে। কারণগুলোর মধ্যে- 

১. সুশাসন: কেজরিওয়ালের হ্যাটট্রিক জয়ের পেছনে বড় কারণ তার সুশাসন। এবার নির্বাচনী প্রচারেই আপ বলেছিল- ‘কাজ করলে ভোট দিন, নইলে নয়’। দলটি মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় দারুণভাবে সফল। ফ্রিতে বিদ্যুৎ, ঘরে ঘরে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে আপের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। গেল ৫ বছরে দিল্লিবাসীর জন্য অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প তৈরি ও তা বাস্তবে রূপ দিয়েছে দলটি। এসব ক্ষেত্রে পুরোপুরিভাবেই ব্যর্থ ছিল বিজেপি। 

২. অহিংস প্রচার-প্রচারণা: বিজেপির মতো ধর্মীয় বিভাজন কিংবা ধর্মীয় উস্কানি নিয়ে প্রচারণায় নামেনি আপ। কেজরিওয়ালের দল শুধু নিজেদের সরকারে জনমুখী কাজগুলোই জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক সিএএ কিংবা এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকেও ভোটের প্রচারণায় সামনে আনেনি আপ। 

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি ২৫০ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও নেতাকে নিয়ে ভোটের প্রচারণায় নেমেছিল। যাদের অধিকাংশই প্রচারণায় প্রতিপক্ষকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছেন তাদের বক্তব্যে। যা মানুষ ভালোভাবে নিতে পারেনি। 

শুরু থেকেই দিল্লির নির্বাচনকে পাক-ভারত যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছিল। বিজেপি নেতারা এও বলেছেন, কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী হলে শাহিনবাগের লোকজন ঘরে ঢুকে মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করবে। 

কিন্তু কেজরিওয়াল কখনও বিজেপিকে পাল্টা জবাব দেননি। তিনি শুধু মানুষের কাছে গিয়ে নিজেকে ‘আপনাদের বেটা’ বলে তুলে ধরেছেন। যা দিল্লির মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। 

৩. কট্টর হিন্দুত্ববাদের ব্যর্থতা: গেল কয়েকটি নির্বাচনে ভারতের কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদীদের ভূমিকা বিজেপির পক্ষে সুফল এনে দিলেও এবার তা পারেনি। অথচ তাদের হাতে এনআরসির মতো কার্যকর এক ইস্যুও ছিল। বিজেপির পথ ধরেই এবার কংগ্রেসও কিছুটা হিন্দুত্বের দিকে ঝুঁকেছিল, শেষতক কাজ হয়নি। তবে কেজরিওয়ালের সফলতা কেউ ঠেকাতে পারেনি।

আগেরবারও দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে জামা মসজিদের শাহি ইমামের সমর্থন মুখের ওপর প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কেজরিওয়াল। এবারও তাদের সমর্থন নেননি তিনি। তবে সামাজিক মাধ্যমে বরাবরই নিজেকে কিছুটা হিন্দু বলেই উল্লেখ করেন তিনি।

৪. মধ্যবিত্তদের প্রভাব: যেকোনও দেশেই মধ্যবিত্তের সংখ্যাটাই অনেককিছু নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষত রাজনৈতিক অঙ্গনে ভোটের যোগ-বিয়োগে মধ্যবিত্তের ভূমিকা থাকে প্রবল। কেজরি দিল্লির মধ্যবিত্তদের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে নিতে পেরেছেন। নিজেকে তাদের একজন করে নিতে পেরেছেন। 

ভোটের প্রচারেও কেজরি প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘কেন্দ্রে মোদী ও দিল্লিতে কেজরি- মানুষ এটা ঠিক করে ফেলেছে।’ দিল্লির মানুষও আম আদমীদের গত ৫ বছরের সেবা ভুলতে পারেনি। 

৫. নিরুত্তাপ কংগ্রেস: দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে কোনও প্রভাবই ফেলতে পারেনি কংগ্রেস। ফলে মূল লড়াইয়েও ঐতিহ্যবাহী এ দলটির যেন কোনও অস্তিত্বই ছিল না। ভোটের যুদ্ধটাও তাই হয়েছে বিজেপি আর আপের মধ্যে। কেজরিওয়ালও ভোটারদের এটা বোঝাতে পেরেছিলেন যে, দিল্লিতে আপের প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেস নয়, বিজেপি। যাতে করে কিছু ফ্লোটিং ভোটও পড়েছে কেজরির পক্ষে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads