যত্রতত্র জীবাণুনাশক ছিটানো, 'বাড়তি বিপদ' ডেকে আনতে পারে

স্বাস্থ্য ডেস্ক
২৩ মে ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ১১:২৪

যত্রতত্র জীবাণুনাশক ছিটানো, 'বাড়তি বিপদ' ডেকে আনতে পারে

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচিং পাউডার (হাইপোক্লোরাইড) এর দ্রবণ ছিটানো হচ্ছে বা শরীরে মাখানো হচ্ছে। যা মানবদেহের চোখ, মুখের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এই অপ্রত্যাশিত কার্যক্রম বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান-শপিংমল সীমিত আকারে খুলে দেয়ার পর এই প্রতিষ্ঠানে জীবাণুনাশক মেশিন বসানো হয়েছে, তা উদ্বেগের বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু এসব জীবাণুনাশক কভিড-১৯ এর জীবাণু বিতাড়িত করতে পারে না, বরং আরও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এ ব্যাপারে প্রমাণাদি তুলে ধরে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বস্তুসমূহের পৃষ্ট দেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও জীবাণুমুক্ত রাখা ভাইরাস থেকে রক্ষার উপায় হতে পারে। তবে গণহারে জীবাণুনাশক ছিটানোর কোনো ফায়দা নেই।

বিষয়টির ব্যাখ্যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‘কভিড-১৯ ভাইরাস বা অন্যান্য রোগ জীবাণু নিধনে বাইরের খোলা জায়গা, রাস্তাঘাট বা হাটবাজারে জীবাণুনাশক ছিটানো বা জীবাণুনাশক দিয়ে ধূমায়িত করতে বলা হয়নি। কেননা জীবাণুনাশক ময়লা-আবর্জনার কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।’

‘সকল সারফেসে ছিটানো জীবাণুনাশক যতটা সময় থাকলে জীবাণু অকার্যকর হতে পারে ততটা সময় বিদ্যমান থাকতে পারে না।’

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, রাস্তাঘাট ও ফুটপাতগুলোতে কভিড-১৯ এর ‘আধার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। বরং অহেতুক জীবাণুনাশক ছিটানো ‘মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকির’ কারণ হতে পারে। ‘মানুষের শরীরেও জীবাণুনাশক ছিটানোও’ 

জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলছে, ‘এটা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ড্রপলেট বা সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়াতে ব্যক্তির যে সক্ষমতা জীবাণুনাশক ছিটিয়ে সে সম্ভাবনাও কমানো যাবে না।’

ছিটানো জীবাণুনাশকে থাকা ক্লোরিন বা অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান চোখ, ত্বকে জ্বালা যন্ত্রণা, মাংসপেশির অসুখ, অন্ত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ

bnbd-ads