বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে ফুটবল মাঠের সমান বন ধ্বংস হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ জুন ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ১০:১২ আপডেট: ১১:০৬

বিশ্বে প্রতি ৬ সেকেন্ডে ফুটবল মাঠের সমান বন ধ্বংস হচ্ছে

বিশ্বজুড়ে গত বছর গুরুত্বপূর্ণ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের পরিমাণ ব্যাপকহারে কমেছে। চিত্রটা এতই ভয়াবহ যে প্রতি ৬ সেকেন্ডে একটি ফুটবল মাঠের সমপরিমাণ রেইনফরেস্ট ধ্বংস হয়েছে। সাম্প্রতিক এক কৃত্রিম উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে এমনটাই দেখা গেছে। খবর মঙ্গা বে, দ্য গার্ডিয়ান।
 
মঙ্গলবার (২ জুন) মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট প্রকাশিত উপাত্তে দেখা গেছে, গত বছর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ হেক্টর রেইনফরেস্ট নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০ লাখ হেক্টর গভীর রেইনফরেস্ট; যার পরিমাণ সুইজারল্যান্ডের সমান এবং এটা গত বছর মোট ধ্বংস হওয়া বনভূমির এক-তৃতীয়াংশ। যেখানে কার্বনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মজুদ ছিল। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি ছাড়াও গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ধ্বংসাত্মক দাবানলে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় মহাদেশটিতে ছয় গুণ গাছ ধ্বংস হয়েছে। 

যে পরিমাণ বনভূমি নষ্ট হয়েছে তার পরিমাণ ১ লাখ ১৯ হাজার কিলোমিটার(৪৫ হাজার ৯৪৬ মাইল), যা নিকারাগুয়ার সমপরিমাণ। এর মধ্যে ব্রাজিল, কঙ্গো, ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া বলিভিয়া, পেরু, ও মালয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

তবে এই হতাশার মধ্যেও কিছু আশার বাণি হলো, কলম্বিয়া মাদাগাস্কার, ঘানা ও আইভরিকোস্টে বনভূমি হ্রাসের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে।

বিশ্লেষণ প্রকাশকারী গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ নেটওয়ার্কের অংশীদার ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের রড টেইলর বলেন, ২০২০ সালেও সচল থাকা অভূতপূর্ব দাবানলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার আংশিক চিত্র কেবল মিলেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউক্যালিপটাস গাছগুলো সাধারণত দাবানলের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারলেও এবারের দাবানল অনেক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। মারাত্মক খরা শেষে তীব্র হাওয়ায় এবারের দাবানলটি ছড়িয়েছে বলে মনে করেন টেইলর। এ দাবানলে প্রত্যক্ষভাবে ৩৩ জন মারা যায়। এছাড়া পরোক্ষভাবে ধোঁয়া গ্রহণের কারণে আরো ৪৪৫ জন মারা যায়। আর প্রাণিকুল মারা গেছে লাখো লাখো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া আরো বেশি দাবানল দেখতে পারে বলে মনে করেন টেইলর।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে গাছের ক্ষয়ক্ষতি ২০০২ সাল থেকে উপাত্ত সংগ্রহ শুরুর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ছিল। ২০১৯ সালটি পিছিয়ে আছে কেবল ২০১৬ ও ২০১৭ সালের চেয়ে। গত বছর সবচেয়ে মারাত্মক বন ধ্বংস হয়েছে ব্রাজিলে, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বন ধ্বংসের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করছে। সরকারি তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, কৃষি ও জমির অন্যান্য নতুন ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অ্যামাজন অঞ্চলে বন ধ্বংস গত বছর দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

গত বছর বন ধ্বংসের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ল্যাটিন আমেরিকার অপর দেশ বলিভিয়ার। রেকর্ড রাখা শুরুর পর পূর্ববর্তী যেকোনো বছরের চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি বন ধ্বংস হয়েছে সেখানে। 

গবেষণা ইনস্টিটিউটটি বলছে, জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রবল বাতাস ও খরার কারণে দাবানলের পাশাপাশি বেশির ভাগ দাবানল ছিল মানবসৃষ্ট। কৃষি আবাদি জমি বাড়ানোর জন্য অনেক জায়গায় আগুন লাগিয়ে বন ধ্বংস করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্র সম্প্রসারণ উৎসাহিত করতে বলিভিয়া সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পর পরই বনধ্বংস এভাবে বেড়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে বন ধ্বংসের পরিমাণ গত বছর কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে রেকর্ড রাখার পর থেকে বন ধ্বংসের পরিমাণ ছিল তৃতীয় সর্বোচ্চ। মূলত চক্রাকার কৃষিকাজের কারণে বন ধ্বংস অব্যাহত রয়েছে। তবে গবেষণা ইনস্টিটিউটটি বলছে, এর সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে গাছ কাটা, মাইনিংও ভূমিকা রাখছে।

ঘানা ও আইভরি কোস্ট উভয় দেশে প্রাথমিক বন ধ্বংসের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায়ও টানা তৃতীয় বছরের মতো বন ধ্বংসের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। গত বছর বন ধ্বংসের পরিমাণ এ মাত্রায় হ্রাস পেয়েছে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে দেখা যায়নি।

ইনস্টিটিউটের একজন সিনিয়র ফেলো ফ্রান্সেস সিমুর বলেন, বিশ্বব্যাপী যে বন ধ্বংস হচ্ছে তা অগ্রহণযোগ্য এবং বিষয়টি স্পষ্ট যে আমাদের প্রবণতাটি বিপরীত দিতে ঘোরাতে হবে। যদি সরকারগুলো ভালো নীতিমালা তৈরি ও আইন প্রয়োগ করে, তবে বন ধ্বংস হ্রাস পাবে। তবে সরকারগুলো যদি বাণিজ্যিক শোষণের জন্য আদিবাসী অঞ্চলগুলোতে অনুপ্রবেশ ও বিধিনিষেধ শিথিল করে, তাহলে বনভূমি ধ্বংস অব্যাহত থাকবে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads