আম্পান: জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্ভোগ চরমে

পরিবেশ প্রতিবেদক
২১ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৯:৪৬

আম্পান: জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত উপকূলীয় অঞ্চল, দুর্ভোগ চরমে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়ে গতকাল বিকাল থেকে বাংলাদেশের স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। অতিপ্রবল এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল।  জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে মানুষের বাড়িঘরে পানি উঠেছে। অতিপ্রবল এ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করে গতকাল বিকাল ৪টার পর।  

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ৫ জেলায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ভোলায় রামদাসপুর চ্যানেল একটি ট্রলার ডুবে একজন ও চরফ্যাশনের শশীভূষণ এলাকায় গাছচাপা পড়ে ছিদ্দিক ফকির নামের এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। পটুয়াখালীতে শিশুসহ দুজন, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুরেও নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া যশোরে গাছ চাপা পড়ে মা ও মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উপকূল অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার। রাত ৮টার মধ্যে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, খুলনা অঞ্চল অতিক্রম করে আম্পান। এরপর বাতাসের গতিবেগ ক্রমান্বয়ে কমে আসে।

বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভারতের সমুদ্র উপকূল দিঘা, বকখালী, কাকদ্বীপ, তাজপুর ও সুন্দরবন অংশে তাণ্ডব চালিয়েছে আম্পান। এটি ভারতের সাগরদ্বীপের পূর্বপাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম শুরু করে। 

এরপর বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকা দিয়ে পরবর্তী তিন থেকে চার ঘণ্টায় বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করে। আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ১০ থেকে ১৫ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়েছে, যার ফলে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল।

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান গতকাল সন্ধ্যায় দেশের সমুদ্র উপকূল অতিক্রম করেছে বলে জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন নিকটবর্তী উপকূল দিয়ে অতিক্রম করা শুরু করে। তবে এটি পেরিয়ে যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টার মতো সময় নিয়েছে।

এদিকে আম্পানের প্রভাবে প্রচণ্ড ঢেউয়ে উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় বাঁধ ভেঙে গেছে। অনেক এলাকায় বিপত্সীমার ওপর দিয়ে  প্রবাহিত হয়েছে পানি। গতকাল বিকালে ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানার আগে ও পরে দেশে বিভিন্ন জেলায় ভারি ও হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে রক্ষায় ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জন মানুষকে আশ্রয় দেয়ার সুযোগ ছিল। তবে মঙ্গলবার আশ্রয় নেয়া মানুষ অনেকেই আবার ঘরে ফিরে গিয়েছিল। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।

‘আম্পান’ থাইল্যান্ডের দেয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড় সাতদিন ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে শক্তি সঞ্চয় করে নিজেকে পরিণত করেছে। তবে এর উৎসটি ছিল বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে। ১৪ মে প্রথম লঘুচাপ সৃষ্টি হয় এই সাগর অঞ্চলে। এর কয়েক দিন পর নিম্নচাপ এবং পরে গভীর নিম্নচাপ। গভীর নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হয় ‘আম্পান’। ঘূর্ণিঝড় থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং গত ১৭ মে ‘সুপার সাইক্লোন’-এর পর্যায়ে চলে আসে আম্পান।

উপকূল থেকে ৯০০ কিলোমিটার দূরে থাকার সময়ই ২০০৭ সালের প্রবল ঘূর্ণিঝড় সিডরের চেয়ে শক্তি অর্জন করে আম্পান। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে বেশ ধীরগতিতে। উপকূলে আসার আগেই বৃষ্টি ঝরাতে থাকে। অবশেষে গতকাল বিকাল ৪টা থেকে এটি সাগর উপকূলের পূর্ব দিকে সুন্দরবন ঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রম শুরু করে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads