সন্ধ্যার মধ্যেই আঘাত হানবে ‘আম্পান’, ভয় ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে

পরিবেশ ডেস্ক
২০ মে ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:২১ আপডেট: ০৪:২৫

সন্ধ্যার মধ্যেই আঘাত হানবে ‘আম্পান’, ভয় ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে

বঙ্গোপসাগর থেকে অতি প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় আম্পান বুধবার শেষ বিকেলে অথবা সন্ধ্যা উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এসময় স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। সুপার সাইক্লোনটি বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। 

বুধবার (২০ মে) বিকেল ৩টায় আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক ড. মুহম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত  ৩৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ‘আম্পান’ পরিস্থিতির সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। 

অতি প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৪২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ শেষ বিকেল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে সাগর দ্বীপের পূর্বপাশ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। 

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। 

একইসঙ্গে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলাসমূহ ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুটেরও বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। 

সেইসঙ্গে ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে উপকূলীয় ওইসব জেলা, অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads