জেনে নিন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ১৮ করণীয়

পরিবেশ ডেস্ক
২০ মে ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ১২:১৭ আপডেট: ০৪:৩৪

জেনে নিন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ১৮ করণীয়

১৯৯৯ সালের পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড়টি আম্পান নাম নিয়ে এবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২০ মে) দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে প্রচণ্ড গতিতে আঘাত হানতে পারে এই সুপার সাইক্লোন। মহাশক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-১০ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে উপকূলীয় অঞ্চলসমূহ।
 
এরইমধ্যে প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে মঙ্গলবার রাত থেকে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরসহ দেশের উপকূলীয় জেলাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। 

ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাস উভয়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস একটি অঞ্চলে আঘাত হানার আগে কী ধরনের প্রস্তুতি থাকতে পারে- চলুন পাঠক দেখে নিই এক নজরে।

* দুর্যোগের সময় কোন এলাকার লোক কোন আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে, গবাদিপশু কোথায় রাখা হবে, এগুলো আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
* যথাসম্ভব উঁচু ও শক্ত স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। পাকা ভিত্তির ওপর লোহার বা কাঠের পিলার এবং ফ্রেম দিয়ে তার উপর ছাউনি দেয়া ঘরে থাকার চেষ্টা করুন। টিনের ঘরের নিচে না থাকাই ভালো। কারণ ঝড়ের সময় টিন উড়ে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
* আপনার ঘরকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ঘরের চারপাশে খুঁটি পুঁতে দড়ি দিয়ে ঘরের বিভিন্ন অংশ বেঁধে রাখুন।
* নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে প্রস্তুত রাখুন। অপসারণ নির্দেশের পর বিলম্ব করবেন না।
* বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ার আগে যেকোনও আগুন নিভিয়ে বের হবেন।
* আপনার অতি প্রয়োজনীয় ডাল, চাল, দেয়াশলাই, শুকনো কাঠ, পানি ফিটকিরি, চিনি, নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধ, বইপত্র, ব্যান্ডেজ, তুলা, ওরস্যালাইন, দলিলপত্র, টাকা-পয়সা ইত্যাদি পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে পানি নিরোধন পলিথিন ব্যাগে ভরে গর্ত করে ঢাকনা দিয়ে পুঁতে রাখুন।
* শক্ত গাছের সঙ্গে কয়েক গোছা লম্বা শক্ত দড়ি বেঁধে রাখুন। যেন প্রচণ্ড ঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসে আপনি সেই গাছের সঙ্গে নিজেকে বেঁধে রাখতে পারেন। তাকে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আপনাকে ভাসিয়ে নিতে পারবে না।
* ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সম্ভব হলে আপনার টিউবওয়েলটিকে উঁচু স্থানে স্থাপন করুন। যাতে জলোচ্ছ্বাসের নোনা ও ময়লা পানি টিউবওয়েলে ঢুকতে না পারে। টিউবওয়েলের খোলা মুখ পলিথিন দিয়ে ভালো করে আটকে দিন। 
* জেলে নৌকা, লঞ্চ ও ট্রলারে রেডিও রাখুন। সবসময় আবহাওয়ার পূর্বাভাগ শুনতে থাকুন।
* সম্ভব হলে ব্যান্ডেজ, ডেটল জাতীয় বাড়িতে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম রাখুন। 
* জলোচ্ছ্বাসের পানির প্রকোপ থেকে রক্ষার নানারকম শস্যের বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করুন। 
* এই সময়টাতে নারী-পুরুষ সবারই সাঁতার জানা থাকলে ভালো।
* ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাড়ি থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় কী কী জরুরি জিনিস সঙ্গে নিতে হবে এবং কী কী জিনিস মাটিতে পু৭তে রাখতে হবে তা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। পরে তাড়াহুড়ো করা যাবে না।
* আর্থিক সামথ্য থাকলে জলোচ্ছ্বাসের আগে ঘরের ভেতর একটি পাকা গর্ত করুন। সেই গর্তেই রাখুন অতি প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান জিনিসপত্র।
* এই সময়টাতে ডায়রিয়া-কলেরার মতো পানিবাহিত রোগীগুলো যেন ঘায়েল করতে না পারে সেদিকে সজাগ থাকুন। শিশুদের ডায়রিয়া হলে ঘরেই কিভাবে স্যালাইন তৈরি করতে হবে সে বিষয়ে পরিবারের সবাইকে প্রশিক্ষণ দিন।
* ঘরে মুড়ি, চিড়া, বিস্কিট, গুড়, মোমবাতি, দেয়াশলাই রাখুন।
* ময়লা পানি কীভাবে ফিটকারি বা ফিল্টার করে খাবার ও ব্যবহার উপযোগী করা যায় সে বিষয়গুলো ঘরের নারীদের কিংবা পরিবারের সদস্যদের জেনে রাখতে হবে।
* ঘূর্ণিঝড়ের পর সাধারণত বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ। তাই সেই পানি বড় হাঁড়ি কিংবা ড্রামে ধরে রাখুন। খেয়াল রাখুন ভেতরে যাতে ময়লা-আবর্জনা কিংবা পোকা-মাকড় ঢুকতে না পারে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads