করতোয়া নদীর মায়াজালে অতিথি পাখিরা

রানা আহমেদ
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ১১:৩৪

করতোয়া নদীর মায়াজালে অতিথি পাখিরা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ গ্রাম ঘেঁষে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে চলে এসেছে পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতিকুটসহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস বিলসহ অনেক চেনা-অচেনা অতিথি পাখিরা। প্রতি বছর শীতের শুরুতে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই করতোয়া নদীতে। এ যেন করতোয়া নদীর মায়াজালে অতিথি পাখিরা। আবার শীতের শেষের দিকে তারা তাদের নিড়ে চলে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদীর পাড়ে শত শত মানুষের ভিড়। সকাল-সন্ধ্যা পাখির কিচিরমিচির আর জলে ডানা ঝাপটানোর শব্দ উপভোগ করেন পাখি প্রেমীরা। দল বেঁধে যখন পাখিগুলো আকাশে উড়ে, তার সঙ্গে যেন উড়ে চলে মনও। পুরো এলাকাটিই সরব করে রাখে এই পাখিগুলো। পাখিদের এই মিছিলে রয়েছে দেশীয় বক, বালিহাঁস, পানি কাউর, পানকৌড়িসহ নাম না জানা আরো অনেক অতিথি পাখি। 


তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ খন্দকার জানান, শীত এলেই অতিথি পাখিগুলো যে কোথা থেকে আসে তা জানি না। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে প্রচুর পাখি আসে করতোয়া নদীতে। অতিথি পাখি যেন শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারা খেয়াল রাখবেন বলে আমি মনে করি।

নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে আসা পাখি প্রেমী মিনা কবির, শাহজাদপুর উপজেলা স্বপ্না পারভীন ও নীরব আহম্মেদ বলেন, নদীতে অতিথি পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে থাকে। খুব বড় না হলেও নদীটি পাখির কারণে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি, উড়ে চলা, নীরবে বসে থাকা মানুষকে আকৃষ্ট করছে। তাই এক নজর পাখি দেখার জন্য এখানে এসেছি।  


স্থানীয় সাংবাদিক শায়লা পারভীন জানান, আমাদের অসচেতনতার অভাবে সামান্য স্বার্থের বা শখের কারণে আমরা শীতের অতিথি পাখিদের শিকার করে মেরে ফেলছি। পাখিরা নিজ আবাস ভূমি ছেড়ে চলে আসে। সেই পাখিগুলোর বেশিরভাগই আবার তাদের নিজ ভূমিতে শীত শেষে ফিরে যেতে পারে না এক শ্রেণির অর্থ লোভী পাখি শিকারিদের অত্যাচারে। এটা আমাদের জন্য খুবই মর্মদায়ক। মানুষের সৃষ্ট কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান বলেন, পাখি প্রকৃতির অলঙ্কার। এ অলঙ্কার ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। আমাদের দেশ ক্রমে ক্রমে অতিথি পাখির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু আইন দিয়েই পাখি শিকার বন্ধ করা যাবে না। সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads