‘নিয়ম ভেঙে’ সরকারি স্কুলে পরীক্ষা, ছড়াচ্ছে ‘বিতর্ক’

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
৭ জানুয়ারি ২০২১, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৩:৩৫ আপডেট: ০৬:২৪

‘নিয়ম ভেঙে’ সরকারি স্কুলে পরীক্ষা, ছড়াচ্ছে ‘বিতর্ক’

বিভাগ বাছাইয়ের জন্য কোনও বাছাই পরীক্ষা গ্রহণের এখতিয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষের না থাকলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই চট্টগ্রামের একটি সরকারি স্কুলে নবম শ্রেণিতে এ পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (০৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ৯ মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যখন বন্ধ রয়েছে, তখন বিভাগ বাছাইয়ে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পরীক্ষা আয়োজন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরও (মাউশি) বলছে, পরীক্ষা নিয়ে বিভাগ নির্ধারণের কোনও নিয়ম কিংবা সুযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের নেই। 

এ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন, স্কুলের নিয়মের কারণে তাদের সন্তানরা পছন্দমতো বিভাগে ভর্তি হতে পারছে না। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভাগ বাছাইয়ে শিক্ষার্থীদের একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেছে। পছন্দের বিভাগ পেতেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কথায় শিক্ষার্থীরা বাছাই পরীক্ষা দিচ্ছে। 

অপরদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, পছন্দের বিভাগে ভর্তিচ্ছুদের সবাইকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থী তাদের নির্ধারণ করে দেয়া যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। তাদের জন্য একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। 

এদিন বিদ্যালয়টির দুটি কক্ষের একটিতে অষ্টম শ্রেণির গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ২৫ করে মোট ৫০ নম্বরের এ মূল্যায়ণ পরীক্ষা নেয়া হয়। 

নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম ফরিদুল আলম হোসাইনী করোনাকালীন এ মূল্যায়ণ পরীক্ষা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে জানান, প্রাতঃ ও দিবা বিভাগ মিলিয়ে স্কুলের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে গেল বছর অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। যারা ২০১৯ সালে সপ্তম শ্রেণি থেকে ৩ দশমিক ৭০ বা তারও বেশি নম্বর পেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল তাদের সবাইকে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ দেয়া হচ্ছে। অনেকেই আবার ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও ভর্তি হচ্ছে। যোগ্যতা অর্জন না করার পরও বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিচ্ছু কিছু শিক্ষার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে অষ্টম শ্রেণির গণিত ও বিজ্ঞানের ওপর ২৫ নম্বর করে ৫০ নম্বরের একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।’

করোনা মহামারির মধ্যে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ, এই সময়ে এমন একটি পরীক্ষা আয়োজন শিক্ষার্থীদের সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়াবে কিনা কিংবা এ পরীক্ষার আদৌ বিশেষ প্রয়োজন ছিল কিনা- এমন প্রশ্নে মাউশি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক দেবব্রত দাশ বলেন, ‘শিক্ষার্থী যে বিভাগে ভর্তি হতে চায় তাকে সেই সুযোগ দেয়া উচিত। তবে আসন স্বল্পতার কারণে শহরের স্কুলগুলোতে সেই সুযোগ পুরোপুরি থাকে না। তাই ফলাফল মূল্যায়ন করে বিভাগ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আলাদা করে পরীক্ষা নিয়ে বিভাগ বাছাইয়ের কোনও সুযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের নেই।’

দেবব্রত দাশ বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। সেগুলোর ভিত্তিতেই বিভাগ বাছাইয়ের সুযোগ দিতে পারে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আলদা করে মূল্যায়ণ পরীক্ষা নিয়মবহির্ভূত।’

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় দফায় দফায় এ ছুটি বাড়ানো হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস চলছে।

এদিকে করোনা মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, অষ্টম শ্রেণির সমাপনী ছাড়াও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করে সরকার। জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হবে। তবে অন্যান্য শ্রেণিগুলোতে পরীক্ষা ছাড়াই ‘অটো পাস’ ভিত্তিতে পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেয়া হবে। আর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads