বিসিএসে সমাপ্ত হচ্ছে কোটা যুগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ জুলাই ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:৫২ আপডেট: ০৫:৪১

বিসিএসে সমাপ্ত হচ্ছে কোটা যুগ

প্রথম শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগে ৪০তম বিসিএস থেকে কোটা পদ্ধতির বিলুপ্তি বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। একইসঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়েছেন, গতকাল চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হওয়া ৩৮তম বিসিএসে নিয়োগে আগের সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ড. সাদিক। 

তিনি জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

ড. সাদিক বলেন, ‘কোটার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছি। সেখানে বলা হয়েছে, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় কোটার বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে। সরকার যদি কোটা বাতিল করে তবে সেটি কার্যকর করা হবে। সেক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষায় কোটা দেয়া বা বাতিলের ক্ষমতা পিএসজির হাতে না, এটি সম্পূর্ণ সরকারের সিদ্ধান্ত। সরকারিভাবে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় আমরা তা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করি। তবে কোটা বাতিল হওয়ায় আগের চাইতে অনেক বেশি মেধাবী বিসিএস পরীক্ষায় সুযোগ পাবে।’

জানা গেছে, ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, কর ২৪, শুল্ক আবগারিতে ৩২ ও শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮০০ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এই সংখ্যা পরবর্তীতে আরও বাড়তে পারে। 

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ২০৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।

গেল বছরের ৩০ এপ্রিল চিকিৎসক নিয়োগে ৩৯তম বিসিএসের (স্পেশাল) ফল প্রকাশ ও নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয় বিদ্যমান কোটা পদ্ধতিতেই।

কয়েক দফা কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে সবশেষ ৫৬ শতাংশের কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, জেলাভিত্তিক ১০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ এবং পরবর্তীতে প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ২৮ থেকে ৩৮তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে ৬ হাজারের মতো পদ খালি ছিল। শুধু কোটার প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য ৩২তম বিশেষ বিসিএস নেয়া হলেরও মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৮১৭টি, নারী ১০টি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ২৯৮টিসহ ১ হাজার ১২৫টি পদ শূন্য রাখতে হয়।

এরপর কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে ঢাকাসহ সারা দেশে জোর আন্দোলন গড়ে তোলে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার একদিন পরই ৪ অক্টোবর নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) ও দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ওই সময়ই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল সংসদে ঘোষণা দেন, ‘সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতিই রাখা হবে না।’ 

যদিও পরবর্তীতে সংসদে তিনি বলেন, ‘কোটা পদ্ধতি থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখতে হাইকোর্টের রায় আছে।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads