প্রধান শিক্ষক অনিয়মিত ৯ বছর, বেতন নেন ঠিকই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:৫৫

প্রধান শিক্ষক অনিয়মিত ৯ বছর, বেতন নেন ঠিকই

রংপুরের পীরগঞ্জে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকলেও নিয়মিত বেতন নেন তারা। ৯ বছর ধরে অনুপস্থিত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকা। এত অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট দফতর। ফলে জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়েই।

জানা গেছে, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জোতবাজ গ্রামের জোতবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ২০১৩ সালে দ্বিতীয় ধাপে সরকারীকরণ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক গোপাল চন্দ্র বর্মণ ও গোলাম কিবরিয়া, আঞ্জুমান আরা রানু, উম্মে হাবিবা ইসমোত আরা নাজমিন ও শিরিনা পারভীনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। তখন পড়ালেখার ভালো পরিবেশ ছিল এ স্কুলে সম্প্রতি সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনিয়ম ও গড় হাজিরা নিয়ে ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী।

সরেজমিনে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের আগে এখানে পড়ালেখার ভালো পরিবেশ ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানে শিক্ষার মান এমন হয়েছে যেকোনো বাবা-মা আর তাদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে চান না।

গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, কোনো প্রকার ক্লাস হয় না শিক্ষকরা তাদের নিজের ইচ্ছামতো আসেন আবার চলে যান। ক্লাস নেওয়ার ইচ্ছা হলে ক্লাস নেন না হলে নেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, প্রধান শিক্ষক বাবুও নিয়মিত আসেন না আবার রানু নামের এক আপা ১২টায় এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। রানুর বাবা এই প্রতিষ্ঠান গড়তে জমি দান করছেন বিধায় তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো প্রতিষ্ঠানে আসেন। তিনি স্কুলের
নিয়ম-নীতির ধার ধারে না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না, ক্লাসে পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। শিক্ষকরা আমাদের ক্লাস করান না এবং আমরা স্কুলে আসি মাঠে খেলি আর দুই-একটা ক্লাস করে ছুটি দিলে বাড়ি যাই। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান গোপাল চন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ৯ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত উম্মে হাবিবা ইসমোত আরা নাজমিন নামে সহকারী শিক্ষিকা। 

প্রধান শিক্ষকের যথাসময়ে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে আমার বাসা অনেক দূরে এছাড়া অফিশিয়াল কাজে আমাকে শিক্ষা অফিসে যেতে হয় তাই যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না। তবে তিনি প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানে আসেন বলে দাবি করেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি শামীম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসামত আরা নামে শিক্ষিকাকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসার জন্য আমরা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। তিনি বর্তমানে বালুয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের পদটি ছেড়ে না দেওয়ার কারণে শিক্ষক সংকট রয়েছে। যদি তিনি এখানে পদটি ছেড়ে দেন তাহলে নতুন শিক্ষক পাওয়া যাবে। আমাদের পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে শিরিনা খাতুন নামে এক বছরের পিটিআই প্রশিক্ষণের জন্য ছুটিতে আছেন। রানু নামে শিক্ষিকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

পীরগঞ্জের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাহের মো. সাইফুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই! তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads