পাইকারি বাজারে কমছে ভোগ্যপণ্যের দাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম
৬ এপ্রিল ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৯:৪৩

পাইকারি বাজারে কমছে ভোগ্যপণ্যের দাম

দেশের বৃহৎ পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। বাজারটিতে রমজান মাস এলে দেখা যায় নিত্যপণ্যের প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধির দৃশ্য। কিন্তু এবছর দেখা মিলছে ব্যতিক্রম চিত্র। রমজানের আগে কমেছে ছোলা, মটর, ডাল, চিনি, তেল ও চিড়ার দাম। কিন্তু বেড়েছে আদা, রসুন এবং পেঁয়াজের দাম। 

জানা যায়, খাতুনগঞ্জে পাইকারি পর্যায়ে মানভেদে অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫৯-৭০ টাকায়। সপ্তাহ আগেও বাজারে একই মানের ছোলা বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৬২-৭২ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও বাজারে প্রতিমণ মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। ১০০ টাকা কমে এখন ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ আগে বাজারে কেজি প্রতি মটর বিক্রি হয়েছে কেজি ৪১ টাকা। গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৩৮ টাকায়। 

বাজারে প্রতি কেজি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মোটা জাতের মসুর বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা ধরে দামে। যা এক সপ্তাহ আগেও কেজি প্রতি ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কমেছে খেসারির দামও। এক সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতি কেজি খেসারি বিক্রি হয়েছে কেজি ৭৩ টাকা। আর বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৬ টাকা দামে। 

এক সপ্তাহ ধরে কমতে শুরু করেছিল চিনির বাজারও। গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৬৪ টাকায়। এখন চিনি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬১ টাকায়। শুধু চিনিও নয় কমতে শুরু করেছে ভোজ্যতেলের বাজারও। পাইকারিতে প্রতি মণ (৪০ দশমিক ৯০ লিটার) পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮৫০ টাকায়। গত সপ্তাহ পর্যন্ত বাজারে পাম অয়েলের দাম ছিল ৩ হাজার ৯৫০ টাকা। সুপার পাম অয়েলের দাম ১০০ টাকা কমে ৪ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দামও মণে ১০০ টাকা কমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। 

কমেছে চিড়ার দামও। মানভেদে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চিড়া বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকা দরে। যা গত এক সপ্তাহ আগেও ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা ছিল।

খাতুনগঞ্জে মেসার্স রহমত স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী রহমত আলী বলেন, পণ্যের দাম এখন কমতির দিকে। কিন্তু লকডাউন শুরুর পর থেকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা কমে গেছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে লকডাউনের আগে সকলেই পণ্য কিনে মজুদ করে ফেলেছেন। লকডাউনের সময় যদি আরও বাড়ে, এরকম ক্রেতারও সংকট থাকে তাহলে আমরা ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবো।

বাজারে তেল, চিনি, ডাল,ছোলা, মটর, মসুর ও খেসারি ডাল কমলেও বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম। ভারতীয় পেঁয়াজ আগে বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। এখন কেজি ৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ দুই দিন আগে ২৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এছাড়া ৪৬ টাকার আদা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার উপরে। ৯৩ টাকার রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ৯৮ টাকায়।

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জ হামিদ উল্লাহ বাজার আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, লকডাউনের আগে ক্রেতার ভিড় একটু বেশি ছিল। স্টকে চাহিদার তুলনায় পণ্যের পরিমাণ কম ছিল। আর এসব পণ্যের মৌসুমও শেষের দিকে। তাই দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে রমজানে এসব পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads