ঈদের আগমুহূর্তে মসলায় আগুন

আহসান হাবিব সবুজ
৩১ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৯:১২

ঈদের আগমুহূর্তে মসলায় আগুন
ছবি: সালেকুজ্জামান রাজীব

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী মসলার দাম বাড়িয়ে দেন। বাজারের চিত্রটা এবারও তার বিপরীত নয়।

ঈদের আগের দিন শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসলার মধ্যে দারুচিনি, এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, শুকনা মরিচ ও হলুদের দাম বেড়েছে। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেও একই মসলার দাম ছিল আরও কম। ঈদকে পুঁজি করে হঠাৎই মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

মসলা কিনতে বাজারে আসা শান্তিনগরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘তিন-চারদিন আগেও মসলার দাম ছিল নিম্নমুখী। অন্তত স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করেই ঈদের একদিন আগে মসলার দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা।’

অপর এক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘৫ দিন আগে কিছু মশলা কিনে রেখেছিলাম। আজ আবার আরও কিছু মসলা কিনতে এসেছি। কিন্তু সেদিনকার দাম আর আজকের দামে অনেক তফাৎ। আজ সব জাতের মসলার দাম বেশি নেয়া হচ্ছে।’

শান্তিনগরের মসলার দোকানি রাসেল মিয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘এবছর মসলার দাম তেমন বাড়েনি। মসলা বিক্রি হচ্ছে কম। প্রতিবছর যেরকম বিক্রি করি এবছর তার অর্ধেকও বিক্রি করতে পারিনি।’

এদিকে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকার মত বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকার কমে বিক্রি হচ্ছে না। ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আদার দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে আমদানি করা আদা ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এখন ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

গরম মসলা দারুচিনি ও লবঙ্গ কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে দারুচিনি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, তা গত সপ্তাহে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
লবঙ্গের বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা কেজিতে। সপ্তাহের ব্যবধানে লবঙ্গের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

জিরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর রসুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জিরা ও রসুনের দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা কমেছে বলেও জানান তারা।

শুকনা মরিচ ও হলুদের কেজি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা ও আমদানি মরিচের কেজি ২৬০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় শুকনা মরিচ ও হলুদের কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

যাত্রাবাড়ীর দুলাল স্ট‌োরের বিক্রেতা মাসুম ইকবাল ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘প্রতিবছরই মসলার দাম বাড়ে। তবে এ বছর প্রথম অবস্থায় ভেবেছিলাম বিক্রি হবে না। দাম কম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদেরকেও একটু বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে একটু বেশি দামে।’

শান্তিনগরের আরেক ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে পেঁয়াজের দাম একটু বেড়েছে। কিন্তু মসলার দাম তেমন বাড়েনি। অন্যান্য বছর ঈদ ঘিরে মসলার দাম যে হারে বাড়ে এবছর ততটা বাড়েনি।’

ব্রেকিংনিউজ/এএইচএস/এমআর

bnbd-ads