অর্থনীতি উদ্ধারে ৫০ হাজার কোটি ইউরোর প্যাকেজ ফ্রান্স-জার্মানির

অর্থনীতি প্রতিবেদক
২১ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:৫৬ আপডেট: ০১:৫৬

অর্থনীতি উদ্ধারে ৫০ হাজার কোটি ইউরোর প্যাকেজ ফ্রান্স-জার্মানির

করোনা ভাইরাসে প্রভাবে বিপর্যস্ত ইউরোপের অর্থনীতি উদ্ধারে ৫০ হাজার কোটি ইউরোর ইউরোপীয় তহবিল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ও জার্মানি। ইউরোপের অর্থনীতিগুলো প্রায় দুই মাসের অচলাবস্থা শেষে যখন চালু হচ্ছে। তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। খবর এএফপি।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দা-পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দায় পড়েছে। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে যখন জাপান জানায়, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি ২০১৫-পরবর্তী প্রথম মন্দায় পড়েছে।

২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইইউ জোটের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত খাত ও অঞ্চলে বাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি ইউরো সংগ্রহের প্রস্তাব করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। তারা এ উদ্যোগকে সৌহার্দের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মাখোঁ বলেন, এ অর্থায়নে লাভবান হওয়া দেশগুলোকে অর্থ ফেরত দিতে হবে না। এ তহবিলের উদ্দেশ্য হলো ইউরোপ যাতে সংকট থেকে আরো সমন্বিত ও সৌহার্দপূর্ণভাবে বেরিয়ে আসতে পারে তা নিশ্চিত করা।

অন্য ইইউ সদস্যদের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে এ তহবিল জোটটির আর্থিক অচলাবস্থার নিরসন করবে। জার্মানির মতো উত্তরের দেশগুলো এতদিন বাজেটের শৃঙ্খলার নামে যৌথ ঋণের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। তবে শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ার কাছ থেকে এ উদ্যোগ বড় ধাক্কা পেয়েছে। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কার্জ বলছেন, যেকোনো সহায়তা অনুদান নয়, ঋণ আকারে দিতে হবে।

সংক্রমণের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে ইউরোপ। ইতালিতে মার্চের পর থেকে করোনা ভাইরাসে প্রতিদিনের মৃত্যুর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১০০-এর নিচে নেমে আসায় দোকানপাট, রেস্তোরাঁসহ এথেন্সের সেইন্ট পিটার্স বেসিলিকা ও অ্যাক্রোপলিসের দরজা খোলা হচ্ছে। ইউরোপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের একটি ইতালির ভেনিসে ঐতিহ্যবাহী জলযান গন্ডোলাগুলো আবার জলে ফিরছে। তবে গন্ডোলাচালকরা হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরছেন। স্থানীয়রা এ দৃশ্যকে স্বাগত জানিয়েছে।

শহরের প্রথা সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কাউন্সিলর জিওভান্নি জিওস্তো বলেন, এটি একটি সুসংবাদ এবং মানুষ যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চাইছে, সে আকাঙ্ক্ষার চিহ্ন বহন করছে। তবে ভাইরাসকে সম্পূর্ণ পরাজিত করার আগ পর্যন্ত আমাদের সতর্ক প্রহরা দিতে হবে।

এছাড়া করোনার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রও ব্যাপক মন্দার শিকার হতে চলেছে। সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারাল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল।

তিনি বলেন, জুনে শেষ হওয়া চলতি ত্রৈমাসিকের উপাত্ত খুব খারাপ হতে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বৃহৎ পতনের পাশাপাশি বেকারত্বের হার অনেক বাড়বে।

ব্রেকিংনিউজ/এম

bnbd-ads