চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য উঠানামা বন্ধ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
১৮ মে ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০২:১৫

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য উঠানামা বন্ধ

করোনা দুর্যোগের মধ্যেই উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।এটি আরও ঘণীভূত হয়ে অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরের ভেতর জেটিতে পণ্য ওঠানামা স্বাভাবিক রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের সতর্ক সংকেতের ভিত্তিতে রবিবার (১৭ মে) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রস্তুতি বৈঠক করেছে। অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম। বৈঠকে সিটি করপোরেশন, সড়ক জনপথ অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে অবস্থানরত অভ্যন্তরীণ জাহাজ ও ছোট  নৌযানগুলোকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উজানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলো  কুতুবদিয়া-কক্সবাজার উপকূলে সরে যাবে এবং সাগর উত্তাল থাকায় দুটি ইঞ্জিন সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর সংকেত বাড়ালে বন্দর কর্তৃপক্ষ অ্যালার্ট-৩ জারি করবে। বর্তমানে জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলোকে ডাবল রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।জরুরি তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বন্দরের নৌ ও পরিবহন বিভাগ দুইটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর পাঁচ নম্বর সতর্কতা সংকেতে উন্নীত করে তখন চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।আর করোনার সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা নিয়ে আমরা করণীয় নির্ধারণ করেছি।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।বর্তমান গতিতে আগাতে থাকলে মঙ্গলবার মধ্যরাতে অথবা বুধবার সকালে এটি বংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাব শুরুর পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে দুই নম্বর থাকলেও পরে চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে। সেইসঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads