কিশোরগঞ্জে চাষিদের নামে বরাদ্দকৃত বীজ ও সার আত্মসাৎ

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০২:৩৮

কিশোরগঞ্জে চাষিদের নামে বরাদ্দকৃত বীজ ও সার আত্মসাৎ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় পাঠচাষীদের নামে ভুয়া মাষ্টাররোল তৈরি করে জাল স্বাক্ষর দিয়ে সরকারি বরাদ্দের সার, বীজ এবং প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করার ফলে একদিকে কমছে পাট চাষ অপরদিকে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের পাট চাষ প্রকল্প। 

উপজেলা পাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে কিশোরগঞ্জ উপজেলার পাঠচাষীদের জন্য ২ হাজার কেজি ৫ বীজ এবং পরিমাণ অনুযায়ী সার বরাদ্দ করা হয়।  কিন্তু উপজেলা পাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তা পাঠ চাষিদের ভুয়া মাষ্টাররোল তৈরি করে জাল স্বাক্ষর দিয়ে বরাদ্দের সমস্ত সার বীজ উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করে।  অপরদিকে ২০২১ সালে উপজেলার একশ পাঠ চাষিকে উন্নত প্রযুক্তিতে পাঠ চাষের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করা হলেও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা ভুয়া কৃষকের নাম দিয়ে প্রশিক্ষনের সমস্ত অর্থ আত্মসাৎ করে। 

গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে বড়ভিটা ইউনিয়নের পানাতীপাড়া গ্রামের পাঠচাষি শ্রী মঙ্গল চন্দ্র রায় জানান, ২০২০ সালে আমি কোন পাটবীজ কিংবা এক ছটাক সারও পাইনি।  সরকারি সার বীজ বিতরণের মাষ্টাররোলে তালিকায় আপনার নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে জানালে তিনি বলেন, আমি কোথায় কোন স্বাক্ষর করিনি।  চাইলে আপনারা আমার স্বাক্ষর নিয়ে দেখতে পারেন।  

একই কথা বলেন, রণচন্ডি ইউনিয়নের পাঠচাষী একরামুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, মোশফেকুর রহমান নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাজেডুমরিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আশরাফ আলী, দুলাল হোসেন, সামছুলহকসহ অনেক কৃষক। 

উপজেলা পাঠ উন্নয়ন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, কাজ করলে একটু ভুল ত্রুটি হতে পারে।  তাছাড়া তালিকা দেয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন।  আপনারা চাইলে ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলতে পারেন। 

উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসার প্রকল্পের সদস্য এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, পাট অফিস সম্পূর্ণ আলাদা।  পাট চাষ এবং সম্প্রসারণের বিষয়টি তিনি দেখভাল করেন।  তাঁরপরেও আমি ওনার সাথে কথা বলে দেখব কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা। 

উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাট বীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি।  এ বিষয়ে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করব। 

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads