জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে কুমিল্লা মেডিকেল

রুবেল মজুমদার
২৬ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১২:৫২

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে কুমিল্লা মেডিকেল

২৫০ শয্যার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালটি ১৩ বছর আগে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল বাড়েনি।  ফলে ২৫০ শয্যার জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে প্রায় ২৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। 

বর্তমানে এ হাসপাতালের উপ-পরিচালক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে ৩৫টি। দীর্ঘদিন ধরে এমন জনবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।  কুমেক হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।  

জানা যায়, ১৯৯২ সালে ২৫০ শয্যার কুমেক হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।  এ হাসপাতালে সময়ে সময়ে শয্যা, ওয়ার্ড ও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জনবল বাড়েনি।  এ অবস্থায় ২০০৮ সালে এ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল দেওয়া হয়নি।  বর্তমানে এ হাসপাতালটি কুমিল্লার ১৭টি উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার হতদরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তসহ নানা শ্রেণির মানুষের চিকিৎসা সেবায় ভূমিকা রাখছে।  কিন্তু চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ জনবলের সংকটের কারণে এ হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

রোগীদের অভিযোগ, এ হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম, জনবল ও শয্যা সংকটে তারা এখানে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না।  কুমেক হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, এ হাসপাতালে উপপরিচালক, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুমোদিত ১৭৮টি পদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।  এর মধ্যে হাসপাতালের উপপরিচালক, কনসালটেন্ট সার্জারি, অর্থো-সার্জারি, চক্ষু, ডার্মাটোলজি, মেডিসিন, ইএনটি, অ্যানেসথেসিয়া, রেজিস্ট্রার ইএনটি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। 

এছাড়া সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জারি) পদে দুইটি, অর্থোপেডিক্স, সহকারী রেজিস্ট্রার (শিশু) ও ইএনটি পদে একটি করে, পেডিয়েট্রিক সার্জারি, বার্ন-প্লাস্টিক সার্জারি, নেফ্রোলোজি, ক্যাজুয়েলটি, ইউরোলোজি পদে দুইটি করে, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার, ডায়ালাইস মেডিক্যাল অফিসার সহ সার্জন (এমও) অর্থোপেডিক্স ও ট্রমাটোলজি, ইনডোর গাইনি মেডিকেল অফিসার, নিউরো মেডিসিন, মেডিক্যাল অফিসার শিশু ও ক্যাজুয়েলটি পদে একটি করে ও রেডিওলজিস্ট (রেডিওলজি ও ইমেজিং) পদে একটিসহ ৩৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। 

এছাড়াও তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ৫জন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা জানান, ২৫০ শয্যার জনবল দিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। এখানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত সাড়ে ৮০০ রোগী ভর্তি হন এবং আউটডোরে গড়ে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নেন অন্তত ১ হাজার ২০০ রোগী।  ফলে চিকিৎসা সেবাসহ প্রশাসনিক কাজকর্মে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 
 
কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন জানান, এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর শয্যা ও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়লেও জনবল বাড়েনি।  এখানে ৫০০ শয্যার জনবল নিয়োগ ও শূন্য পদগুলো পূরণসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামাদির প্রয়োজন।  রোগীদের সেবার মান আরও বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ব্রেকিংনিউজ, এসপি

bnbd-ads