লালমনিরহাটে সত্যিই কোরআন অবমাননা হয়েছিল?

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৬:৩৭

লালমনিরহাটে সত্যিই কোরআন অবমাননা হয়েছিল?

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থল বন্দর জামে মসজিদে কোরআন অবমাননার ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহর সৃষ্টি হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে আবু ইউনুছ মু শহীদুন্নবী জুয়েলকে প্রথমে মারধর পরে পিটিয়ে হত্যা করে তার লাশ পুড়ে ফেলা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ওই মসজিদের ইমাম সৈয়দ আলী ও খাদেম জোবেদ আলীর সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এরআগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই মসজিদে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে আবু ইউনুছ মু. শহীদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর তার লাশ পুড়ে ফেলেন স্থানীয় বিক্ষুপ্ত জনতা। নিহত আবু ইউনুস মোহাম্মদ শহীদুন্নবী রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রি পাড়ার মৃত আবু ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক লাইব্রেরিয়ান। 

এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সুলতান জোবায়ের আব্বাস (৪৫) নামের আরও এক ব্যক্তি। তিনি একই এলাকার শেখ আব্বাস আলীর ছেলে, পেশায় দলিল লেখক।

মসজিদের খাদেম জোবেদ আলী জানান, আবু ইউনুছ মু. শহীদুন্নবী জুয়েল নামে ওই ব্যক্তি প্রথমে আসরের নামাজ আদায় করেন। তিনি নিজে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে মসজিদের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও জঙ্গি খুজতে থাকে। তিনি কোরআনের উপর পা দিতে দেখিনি। কিন্তু হঠাৎ করে মসজিদের বারান্দা থেকে হোসেন নামে এক ব্যক্তি তাকে আটক করে মসজিদের বাহিরে নিয়ে গিয়ে জুতা খুলে মারধর করেন। মুহূর্তের মধ্যে শত শত লোক জড়ো হয়। পরে হাফিজুল ইসলাম নামে এক ইউপি সদস্য এসে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।

মসজিদের ঈমাম সৈয়দ আলী বলেন, আমি যখন মসজিদ থেকে বের হই তখন ওই ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করেন। তার আচরণ দেখে আমার ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে।

লালমনিরহাট ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ওই মসজিদ পরিদর্শন করেছি। ইমাম, খাদেম ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে গুজব ছড়িয়ে ওই ব্যক্তি হত্যা করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিআইডিসহ অন্যান্য সংস্থা ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করছে। এই ঘটনায় একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান।

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads