স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিটানো ‘মেয়াদহীন’ সরকারি ওষুধ

বরিশাল প্রতিনিধি
১৫ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৫:৪০

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিটানো ‘মেয়াদহীন’ সরকারি ওষুধ

সাধারণ রোগীদের ঠিকমত ওষুধ বিতরণ না করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার হয়েছে। ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) সিনিগ্ধা রায় ওষুধ বিতরণে টাকা নেওয়া অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে রবিবার ওষুধগুলো দেখা গেলেও পরবর্তীতে তা অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারি ওষুধ এভাবে যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা জানিয়েছেন, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে স্যাকমো সিনিগ্ধা রায় ওষুধ বাবদ টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে ওষুধ নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয় রোগীদের। 

অপর এক স্বাস্থ্য কর্মী জানিয়েছেন, স্যাকমো সিনিগ্ধা রায় নিয়মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন না। কোনদিন সকাল ১০ টার মধ্যে অফিসে আসলেও আবার সাড়ে ১২ টার মধ্যে চলে যান। এমনকি রোগীদের ওষুধপত্রও ঠিকমত দেন না। তারা আরও জানিয়েছেন, ওষুধগুলো আগে থেকে ফিল্ড কর্মীদের দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করতে পারতেন।
 
এ বিষয়ে সাব এ্যাসিট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সিন্ধা রায় জানান, ওষুধগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রয়ারি মাসে। তিনি আরও জানান, এক খালারে কাগজ পোড়াইতে দিছিলাম। খালায় কাগজ পোড়াইছে আর ওষুধগুলো ওখানে ফেলে রাখছে। সেটা আমার চোখে পরলে হয়তো সরাইতাম। সরকারি ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে করণীয় কি? জানতে চাইলে সেটা তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন।
 
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সাইয়্যেদ মো. আমরুল্লা জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে এভাবে সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে রাখার সুযোগ নেই। যদি ওষুদের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তবে সে আমাকে জানাবে। তারপর সিভিল সার্জন কে জানিয়ে এগুলো ধ্বংস করতে হবে। কিন্তু সে আমাকে কিছুই জানায়নি। তিনি আরও বলেন, স্যাকমো সিনিগ্ধা রায় নিয়মিত অফিস করেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
 
এ দিকে আট মাসে আট দিনও অফিস না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাটাজোর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শুভ্রা দাসের বিরুদ্ধে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ ইউনিয়নের সাধারণ রোগীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখ এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে যোগদান করেন ৩৯তম বিসিএসের চিকিৎসক শুভ্রা দাস। এরপর কয়েকদিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করলেও গত মার্চ মাস থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন তিনি।
 
এ বিষয়ে ডাক্তার শুভ্রা দাস জানান, তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। তিনি একজন আনমেরিড। একা এখানে তার থাকা সম্ভব হচ্ছে না। 

তিনি আরও জানান, গত জানুয়ারি মাসে তার জন্ডিস ধরা পড়ার পর তিনি কয়েক মাস অসুস্থ ছিলেন। তিনি অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। 

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সাইয়্যেদ মো. আমরুল্লা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads