কারাবন্দির সুন্দরী স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিলেন কারারক্ষী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:৪৪ আপডেট: ০২:০৬

কারাবন্দির সুন্দরী স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিলেন কারারক্ষী
ছবি: প্রতীকী

স্বামী কারাবন্দি, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এক কারারক্ষীর সঙ্গে। অতঃপর শেষ পর্যন্ত সেই কারাবন্দির স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫ বছর ধরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত আছেন মামুন হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ এলাকায়। তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং ওই কারাগারের ব্যারাকে একাই থাকতেন। 

অন্যদিকে কারাবন্দি মোহাম্মদ আকাশ রাজশাহী মহানগরীর ষষ্ঠিতলা এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রীর নাম পারভীন আক্তার (২৮)। তাদের ঘরে ৮ বছর বয়সী একটি ছেলেও রয়েছে। পারভীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকার রহমতপাড়ার নাসির উদ্দিনের মেয়ে। ১৪ বছর আগে আকাশের সঙ্গে পারিবারিকভাবে পারভীনের বিয়ে হয়। 

এ ব্যাপারে পারভীনের বড় বোন শিরিন আক্তার জানান, আকাশ জেলে যাওয়ার পর ওই কারারক্ষীর সঙ্গে পারভীনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই তারা পরস্পর কাছাকাছি আসে এবং পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান। গত কোরবানির ঈদের তিনদিন আগে ওই কারারক্ষী পারভীনকে ভাগিয়ে নেন।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম, পারভীন স্বেচ্ছায় ওই লোকটির সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছে। কিন্তু পরে ফোন করে সে আমাদের জানায়, ওই কারারক্ষী তাকে জিম্মি করে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন। বিয়ে না করেই পারভীনের সঙ্গে কারারক্ষী স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকছেন।’

এদিকে পারভীনের কারাবন্দি স্বামী আকাশ জানিয়েছেন, তিনি ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন। সেখান থেকে ফেরার পথে নগর ডিবি পুলিশ তাকে সন্দেহভাজন মাদক কারবাহি হিসেবে তুলে নিয়ে গিয়ে তার কাছে টাকা দাবিজ করে। দাবি পূরণ না হওয়ায় পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশের ওই দলটি। 

আকাশ জানান, কারাবন্দি থাকাকালীন কারারক্ষী মামুন হোসেনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। তিনি স্ত্রীর মোবাইল নম্বর দিয়ে ওই কারারক্ষীকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজখবর দেয়ার অনুরোধ করেন। এরপরই পারভীনের সঙ্গে মামুনের পরকীয়া শুরু হয়। 

জানা যায়, এক পর্যায়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের গোপন ভিডিও ধারণ করে তাকে জিম্মি করেন কারারক্ষী মামুন। তার স্বামীর মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে জানিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ভাগিয়ে নিয়ে যান। পরে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন পারভীনের স্বামী আকাশ। 

এদিকে কারারক্ষী মামুনের দাবি, পারভীনের সঙ্গে তার কোনও পরকীয়া সম্পর্ক নেই। তার সংসার আছে, ঘরে স্ত্রী আছে। তিনি এমন কিছু করেননি। পারভীনকে ভাগিয়ে নেয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেছেন মামুন।

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন ও জেলার মাসুদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। 

তবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে স্যারেরা হয়তো বলতে পারবেন। আমাদের দায়িত্ব আসামিদের দেখাশোনা অর্থাৎ কোন আসামি ছাড়া পাবে কোন আসামি পাবে না এ বিষয়গুলো।’

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads