ঘুষ না পেয়ে বেতন বন্ধ: সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:৩৮

ঘুষ না পেয়ে বেতন বন্ধ: সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

ঘুষ না পেয়ে সহকারী শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কুমড়িরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগি একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের লোহাখুচি মালগারা গ্রামের মৃত অলি উদ্দিনের ছেলে।  তিনি কুমড়িরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জানা যায়, উপজেলার কুমড়িরহাট এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পরে সহকারী শিক্ষক (গনিত) পদে একটি বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম।  উক্ত পদে ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর তার প্রতিবেশি ভুমিহীন দিনমজুর মাইনুল ইসলামের ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা মনোয়ারুল ইসলামকে নিয়োগ দেন।  যার ইনডেক্স নম্বর ১১৫৫১০২।  এমপিওভুক্তির আবেদন করার সময় কৌশলী প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে তার কাছে দুইটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে নেন। 

যোগদান থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন এবং ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।  অক্টোবর মাসের বেতন উত্তোলনের পরে মনোয়ারুলের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম।

ঘুষের সেই টাকা না পেয়ে নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে দায়িত্ব পালন করলেও বিনা নোটিশে ওই শিক্ষকের বেতন বন্ধ করে দেন প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম।  বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে অবগত করে বিচার চান সহকারী শিক্ষক।  এতে  ক্ষিপ্ত হয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি বই উৎসবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম কাজল সহকারী শিক্ষক (গণিত) মনোয়ারুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন।  আগামীতে বিদ্যালয়ে না আসতে হুমকী দেন।

হুমকীর ঘটনায় সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ২৫ জানুয়ারি আদিতমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি নং ৯৭১) করেন।  একই সাথে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।  মেধাবী শিক্ষককে হয়রানির প্রতিবাদে এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন দফতরে গনপিটিশন দাখিল করেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

এসব বিষয় নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে একাধিক খবর প্রকাশিত হয়।  যার ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্তে মাঠে নামেন।  এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের দায় এড়াতে কৌশলী প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম পূর্বের স্বাক্ষর করা সাদা কাগজের একটিতে মনোয়ারুলের ইস্তোফা পত্র দেখান তদন্ত কমিটিকে।

উক্ত ভুয়া ইস্তেফাপত্র উদ্ধারসহ চাকরি ফিরে পেতে এবং দুর্নীতিবাজ কামরুলের শাস্তি দাবি করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লিগ্যাল এইড এর সহায়তায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগি সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম।  আদালত মামলাটি গ্রহন করে বিবাদি কামরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।

মামলাটির বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাকিমুল ইসলাম বলেন, আদালত সন্তষ্ট হয়ে মামলাটি গ্রহন করে সরাসরি বিবাদির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছেন।  ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বাদির প্রতি চরম অন্যায় করেছেন বিবাদি কামরুল ইসলাম।  মামলায় বাদি ন্যায় পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads