টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিয়তায় দুই বোন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:২৯ আপডেট: ০১:১০

টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিয়তায় দুই বোন

ছয় বোনা আর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস মা’কে নিয়ে একটি পরিবারে।  বাবা আব্দুল করিম মিয়া কোন ছেলে সন্তান না হওয়া দ্বিতীয় বিয়ে করে ওই ছয় কন্যাসহ স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিয়েছেন বাড়ি থেকে।

ওই পরিবারের দুটি মেয়ে হাবিবা আক্রার ও সুমাইয়া আক্তার।  তাদের বাবা তাড়িয়ে দেয়ার পর তারা দুজনেই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আব্দুল আলীপুর এলাকায় নানা বাড়িতে থাকতেন। 

নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত দুই বোন হাবিবা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তারের।  হাবিবা ও সুমাইয়া সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আব্দুল আলীপুল এলাকায় নানাবাড়িতে থাকে।  

অভাবের মধ্যে থেকেও মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হাবিবা জিপিএ- ৪.৫২ ও সুমাইয়া জিপিএ- ৪.৭১ পেয়ে এবার এসএসসি পাস করেছে।  অনলাইনে আবেদন করে রাজধানীর সরকারি তোলারাম কলেজে ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে তারা দুই বোন।  গত রোববার থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও ৫ হাজার টাকার জন্য তারা দুই বোন এখন পর্যন্ত ভর্তি হতে পারেনি। 

শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার জানায়, তারা ছয় বোন।  ৪ বছর আগে তাদের বড় বোনের বিয়ে হয়।  বাকি ৩ বোনের মধ্যে দুইজন পঞ্চম শ্রেণিতে ও আরেকজন শিশু শ্রেণিতে পড়ে।  মা আসমা বেগম ১০ হাজার টাকা বেতনে আদমজী ইপিজেডের বেকা গার্মেন্টসে চাকরি করেন।  মা আছমা বেগমের সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যে সন্তানদের পড়াশুনা করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  

হাবিবা জানায়, আমরা দুই বোন নানার বাড়িতে থাকি।  কিন্তু আমাদের মামারা গার্মেন্টসে চাকরি কারায় নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছে।  সেজন্য আমাদের কলেজের ভর্তির ব্যপারে তারা সহযোগিতা করতে পারছেন না। 

হাবিবা আরও জানান, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই বলে বাবা আমার মাকে অনেক নির্যাতন করতেন।  ২০১৭ সালে আমার মায়ের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করার পর সংসারে কোনো খরচ না দেয়ায় আমি দেড় বছর গার্মেন্টসে চাকরি করে সংসারের খরচ বহন করি।  এজন্য আমি স্কুলে কোনো ক্লাসও করতে পারিনি।  তারপর আমার মা চাকরি পেলে আমি চাকরি ছেড়ে আবারও লেখাপড়ায় মন দিই।। ’

সে জানায়, আমরা লেখাপড়াটা করতে চাই।  আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিতে চাই আমরা মেয়ে বলে কোন খেলনা নই। 

অপর বোন সুমাইয়া বলে, ‘আমরা লেখাপড়া করে ভালো একটা চাকরি করতে চাই।  সমাজে আমাদের মতো যারা টাকার অভাবে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য ভবিষ্যতে কিছু একটা করতে চাই।  যদি ভর্তি হতে পারি তাহলে কলেজে পড়ার পাশাপশি পার্টটাইম কাজ করব।  তাছাড়া আগামী জানুয়ারি থেকে টিউশনি করার চেষ্টা করব।’

মা আছমা বেগম বলেন, আমি চাই আমার মেয়েরা লেখাপড়া করুক। আমার মেয়েদের লেখাপড়ার আগ্রহ আছে।

মিজমিজি পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, সুমাইয়া ও হাবিবা খুবই ভালো এবং মেধাবী মেয়ে।  তারা দুই বোন এসএসসিতে ভালো জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।  আমর বিশ্বাস লেখাপড়ার জন্য ওদেরকে কেউ সহায়তা করলে তার ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।   

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads