২০০ গজ রাস্তা সংস্কারে ব্যর্থ ৪ কাউন্সিলর!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম
১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৭

২০০ গজ রাস্তা সংস্কারে ব্যর্থ ৪ কাউন্সিলর!

রাস্তাটি দুই এলাকার দুটি প্রধান সড়ককে করেছে সংযুক্ত। প্রতিদিন স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী নারীসহ অসংখ্য মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। বছরের হাতেগোনা কিছুদিন ছাড়া অধিকাংশ সময়ই রাস্তাটি থাকে ড্রেনের ময়লা পানির নিচে। প্রায় ২০০ গজের এই রাস্তা উঁচু করতে হয়েছে অনেক তদবির। কিন্তু চার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলে দুই মেয়াদেও উঁচু করতে পারেননি রাস্তাটি! সংযুক্ত প্রায় প্রতিটি উপগলিই উঁচু করা হয়েছে, বাদ পড়ে গেছে শুধু মূল রাস্তাই!

বলা হচ্ছে নগরের ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের আবদুল লতিফ বাই লেইনের কথা। এ রাস্তার শেষ অংশে হাজী শফিকুল ইসলামের খামার থেকে বদিউল আলমের খামার পর্যন্ত আনুমানিক ২০০ গজ রাস্তা প্রায় একযুগেও উঁচু করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃতপক্ষে রাস্তা বলাটাও ভুল হবে। এটি আসলে একটি ড্রেন। ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার (কাউন্সিলর) শহীদুল আলমের মেয়াদকালে রাস্তার ওই অংশটি কেটে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। সেই ড্রেনের ওপর ঢালাই করা স্ল্যাবের ওপর দিয়েই এখন চলাচল করেন এলাকার মানুষ।

তবে শুধু মানুষ নয়, সিএনজি অটোরিকশা থেকে শুরু করে ছোটখাটো পিকআপ ট্রাকও এই রাস্তায় একটা সময় পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করত। তবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজে রাস্তাটির একপ্রান্ত কেটে ফেলায় একরকম বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।

রাস্তাটির অবস্থান 

রাস্তাটি (আবদুল লতিফ বাই লেইন) ডিসি রোড থেকে শুরু হয়ে ইউনুস রোড (শান্তিনগর) হয়ে দেওয়ানবাজারে গিয়ে মিশেছে। প্রায় পুরো রাস্তাটিই কম-বেশি উঁচু করা হলেও মাঝখানের ২০০ গজের কাছাকাছি অংশ এখনও নিচু রয়ে গেছে।

মূল রাস্তা নিচু রেখেই উঁচু হয়েছে উপগলি!

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, রাস্তার যে অংশ নিচু রয়েছে তার আগে পরে তো বটেই এমনকি রাস্তার মাঝামাঝি অংশের একটি উপগলিও উঁচু করা হয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতো বাদ পড়ে গেছে সেই মাঝখানের অংশটিই!

১০ বছরেও রাস্তা উঁচু করতে পারেননি ৪ কাউন্সিলর! 

কমিশনার শহীদুল আলমের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আরও দুইবার নির্বাচন হয়েছে। দুই নির্বাচনেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন এ কে এম জাফরুল ইসলাম। তবে দ্বিতীয়বার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে তিনি মারা যাওয়ার পর হয় উপনির্বাচন। সেই উপনির্বাচনে জাফরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম ডিউক কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন। 

অন্যদিকে দুই মেয়াদে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন যথাক্রমে সাহেদা কাশেম সাথী ও ফারজানা পারভীন। এরমধ্যে সাহেদা কাশেম সাথী মারা গেছেন।

মহিলা কাউন্সিলরদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, দুজনই ১৭, ১৮ ও ১৯নং, মোট তিনটি ওয়ার্ডের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও দুজনই থাকতেন ১৭নং ওয়ার্ডে। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে, সেই নিচু রাস্তাটির খুব কাছাকাছিই ছিল তাদের বাসা।

রাস্তাটির আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা দুই মেয়াদে নির্বাচিত এই কাউন্সিলরদের কাছে বেশ কয়েকবার রাস্তা উঁচু করার দাবি নিয়ে হাজির হন। কিন্তু চার কাউন্সিলরের কেউই রাস্তাটির ওই অংশ উঁচু করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেননি। শুধু মৌখিক মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গেছেন বার বার।

এরমধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি ঘটে কাউন্সিলর জাফরুল ইসলামের মেয়াদকালে। তিনি দায়িত্বে থাকাকালে আবদুল লতিফ রোডের শুরু থেকে ইউনুস রোড পর্যন্ত রাস্তাটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশ কম-বেশি উঁচু ও সংস্কার করা হয়। কিন্তু রাস্তার ঠিক মাঝখানে প্রায় ২০০ গজ অংশ ঢালু করে নিচুই রেখে দেওয়া হয়। তার মেয়াদে কয়েক দফায় মূল রাস্তা ছাড়াও প্রায় অধিকাংশ উপগলি উঁচু করা হলেও বার বার অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়ে যায় নির্দিষ্ট ওই অংশটি।

জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা ব্যাংকার কাজী মোহাম্মদ ইসহাক ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকবার স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে গিয়েছি। কাউন্সিলর আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিনেও রাস্তার ওই অংশটি উঁচু করা হয়নি। এজন্য এলাকার মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ব্রেকিংনিউজের সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর জাফরুল ইসলাম জীবিত থাকাবস্থায়, তার মৃত্যুর পর তার ছেলে অপর কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারজানা পারভীনের সঙ্গে বেশ কয়েক দফায় কথা হয়। প্রত্যেকেই বার বার আশ্বাস দেওয়ার পরও রাস্তাটির ওই অংশের কাজে কোনো অগ্রগতিই হয়নি। তবে এই তিনজনের মধ্যে আরিফুল ইসলামের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। তিনি মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, দুই মেয়াদে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করা জাফরুল ইসলাম ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। অন্যদিকে রাস্তাটির যে অংশটি নিচু রয়ে গেছে তারমধ্যেই পড়েছে থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হাজী শফিকুল ইসলামের খামার।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads