নজরদারির অভাবে ‘রেড জোনে’ বাড়ছে করোনা আক্রান্ত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী
৩ জুলাই ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:২৭

নজরদারির অভাবে ‘রেড জোনে’ বাড়ছে করোনা আক্রান্ত

রাজশাহী জুড়ে নো মাস্ক নো সার্ভিস ঘোষণা হলেও তার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। হাটবাজার থেকে শুরু করে কোন স্থানেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্কের ব্যবহার অনেকটা কমে গেছে। ফলে এই জেলায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও নজরদারি কমানোই এমন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে রেড জোনের ভেতরে চলে গেছে রাজশাহীর অধিকাংশ এলাকা। বিশেষ করে রাজশাহী মহানগরী ছাড়াও আরও পাঁচ উপজেলা করোনার রেড জোটে প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে নগরী ঘেরা এবং নগরীর সাথে পাল্লা দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পবা উপজেলায়। তবে এখনও লকডাউনের মতো কোন সিদ্ধান্ত আসছে না বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। আর আক্রান্তের সংখ্যা ৯১০ জন। করোনার রেড জোন ঘোষণার শর্ত অনুযায়ী রাজশাহী জেলা এখন রেড জোনে। তবে জেলায় এলাকা ভিত্তিক রেড জোনে পড়েছে নগরী ও পাঁচটি উপজেলা। এগুলো উপজেলা হলো, পবা, বাঘা, চারঘাট, মোহনপুর ও তানোর। তবে সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে বাকি উপজেলাগুলোও কয়েকদিনের মধ্যে রেড জোনে চলে আসবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এদিন সকাল পর্যন্ত রাজশাহী জেলা ও মহানগরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯১০ জন। এর মধ্যে ৬৫০ জনই শনাক্ত হয়েছেন রাজশাহী মহানগর এলাকায়। এছাড়া জেলার বাঘা উপজেলায় ২০, চারঘাটে ২৮, পুঠিয়ায় ১৪, দুর্গাপুরে ১২, বাগমারায় ৩১, মোহনপুরে ৪১, তানোরে ৩৭, পবায় ৬৭ এবং গোদাগাড়ীতে ১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

রাজশাহীতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯ জন। এর মধ্যে রাজশাহী সিটিতেই প্রাণ গেছে ৫ জনের। এর বাইরে বাঘা, চারঘাট, পবা ও মোহনপুরে একজন করে মারা গেছেন। তবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া দুই করোনা রোগীর তথ্য সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের এ হিসাবে নেই। তাদের ধরলে রাজশাহীতে এখন মৃতের সংখ্যা ১১।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় বলছে, রাজশাহীতে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৪০ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ৭৬১ জন। এর মধ্যে নগরেই চিকিৎসাধীন ৫৯০ জন। গ্রামের চেয়ে শহরে সংক্রমণের হার অনেক বেশি।

ডা. এনামুল হক বলেন, শহরে সংক্রমণ বেশি হবার কারণ আমি মনে করি দেরিতে পরীক্ষা শুরু করা। রাজশাহীতে ল্যাব চালুর পর প্রথমে উপজেলাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই তুলনায় শহরের নমুনার পরীক্ষা হয়েছে কম। তখনই করোনা শহরে বিস্তার লাভ করেছে। শহরে সংক্রমণ বেশি হবার অন্য কোন কারণ আমি আপাতত দেখি না।

তিনি বলেন, এবারের লকডাউন হলো নামমাত্র। সেই লকডাউন দিয়ে তো কোন লাভ নেই। লকডাউন দিলে এবার কঠোরভাবে দিতে হবে। সেটা পুরো এলাকার জন্য সম্ভব না। আমরা এভাবে এগোচ্ছি যে, একটি বাড়িতে করোনা রোগী শনাক্ত হলে সেটিসহ তার আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা। অথবা কোন মহল্লায় কয়েকটি বাড়িতে করোনা রোগী পাওয়া গেলে সে মহল্লাটিই লকডাউন করা। কিন্তু পুরো শহর লকডাউন করা সম্ভব না বলে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads