করোনা আক্রান্ত দুই চিকিৎসকের জন্য ‘প্লাজমা’ দিলেন পুলিশ সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
২৯ মে ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৩:৩১

করোনা আক্রান্ত দুই চিকিৎসকের জন্য ‘প্লাজমা’ দিলেন পুলিশ সদস্য

মানবিক পুলিশিং এর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিএমপি'র ট্রাফিক কনস্টেবল অরুন চাকমা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই চিকিৎসকের জন্য প্লাজমা দিলেন তিনি।

সিএমপির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, সিএমপি'র  ট্রাফিক (উত্তর) বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল অরুন চাকমা সিএমপি'র প্রথম পুলিশ সদস্য যিনি করোনা ভাইরাসকে জয় করে গত ৩ মে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন।

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ঢাকার পরে চট্টগ্রামে শুরু হয় প্লাজমা পদ্ধতি প্রয়োগ। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মত করোনা রোগীর শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয় মঙ্গলবার (২৬ মে)। চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সমিরুল ইসলাম বাবুর জন্য প্লাজমা সংগ্রহ করা হয় কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া আরেক পুলিশ সদস্য মো. তারেক সোহেলের শরীর থেকে।

এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে কর্মরত করোনা পজিটিভ দুই চিকিৎসক ডা. সামিরুল ও ডা. মুহিদকে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদানের জন্য প্লাজমা দাতা খোঁজা হচ্ছিলো। সেই সূত্রে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমানের নির্দেশে  বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ওই দুই চিকিৎসকের জন্য প্লাজমা প্রদান করেন কনস্টেবল অরুন চাকমা। যা মানবিক পুলিশিং এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে দেখছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ডাক্তার বাঁচলে আমরা বাঁচবো। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ যুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা ডাক্তারদের প্রতি সিএমপি'র  এই ভালোবাসার উপহার দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এই দুর্দিনে ডাক্তারদের পাশে থাকার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করবে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক জানান, অরুন চাকমা ৩ মে সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে আসেন। এর মধ্যে তার ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ডও সম্পন্ন হয়। মানুষের সেবা করতে গিয়ে অরুন চাকমা সিএমপিতে প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। করোনা থেকে সুস্থ হওয়া সিএমপির প্রথম সদস্য তিনি। এবার অন্যান্য করোনা আক্রান্তকে সুস্থ করতে সিএমপির প্রথম সদস্য হিসেবে প্লাজমা দান করলেন অরুন।

এ বিষয়ে কনস্টেবল অরুণ চাকমা বলেন, আমার প্লাজমা দিয়ে যদি কারো প্রাণ বেঁচে যায় সেটা আমার জন্য গৌরবের। পুলিশ বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে আমি করোনা যুদ্ধে নিজেকে নিয়োজিত রাখতেই দুই চিকিৎসকের প্রাণ বাঁচাতে নিজের প্লাজমা দান করেছি।  

উল্লেখ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সিএমপি'র ট্রাফিক কনস্টেবল অরুন চাকমা গত ১৯ মে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। সিএমপি'র সার্বিক সহযোগিতা এবং ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৪ দিনের চিকিৎসা শেষে দুইবার পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসে। ফলে চিকিৎসকরা গত ৩ মে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads