করোনা ঝুঁকিতে ভিক্ষুকরা, নেই সরকারি পদক্ষেপ

মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম
২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১০:১১

করোনা ঝুঁকিতে ভিক্ষুকরা, নেই সরকারি পদক্ষেপ

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা বর্তমানে ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন বাংলাদেশের ভিক্ষুকরা। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ার কারণে তাদের আয়-রোজগারের পথও বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে ভিক্ষুকদের জন্য বিশেষ প্রকল্প জরুরি হয়ে দাঁড়ালেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপের কথা শোনা যায়নি।

বাংলাদেশে এখনো কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি ভিক্ষুকের প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে। তবে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী সংখ্যাটি পাঁচ লাখের মতো হতে পারে। এই বিশাল সংখ্যার ভিক্ষুকগোষ্ঠীর অধিকাংশই থাকেন ফুটপাতে। কেউ কেউ মাজারে, ‘আয়’ ভালো এমন অনেক ভিক্ষুক আবার বস্তিতে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকেন। তবে রাতে যেখানেই থাকুন জীবিকার তাগিদে তারা ভিক্ষাবৃত্তিকেই একমাত্র পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ভিক্ষুকরা। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, তেমন কিছু হলে আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার বিরোধীরাও পেয়ে যাবেন নতুন ইস্যু।

এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি এ বিষয়টা দেখি না। আপনি তথ্য অধিকার কর্মকর্তা বা ভিক্ষুক পুনর্বাসন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলুন। তারা আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারবেন।’

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অধিকার কর্মকর্তার সঙ্গে করা হলে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘করোনাকে কেন্দ্র করে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য এখনও কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি। তাই তেমন কোনো পদক্ষেপও নেয়া হয়নি। আর ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা আইনি ক্ষমতাও আমাদের দেয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এটা সিটি করপোরেশনের বিষয়। সিটি করপোরেশনের কাছে তালিকা থেকে শুরু করে সবকিছু আছে, বিষয়টা তারা দেখবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এ মুহূর্তে ভিক্ষুকদের নিয়ে কোনো প্রোগ্রাম হাতে নেই। আমাদের আগে থেকেই একটা ভিক্ষুক পুনর্বাসনের প্রোগ্রাম ছিল, যেখানে ৫০ জনের মতো ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়। যা চলমান আছে। কিন্তু এর বাইরে করোনা উপলক্ষে শহরের ভিক্ষুকদের জন্য কোনো প্রোগ্রাম আমাদের নেই। তাছাড়া ভিক্ষুকদের কোনো তালিকাও তো আমাদের কাছে নেই।’

দেশের এমন পরিস্থিতিতে ভিক্ষুকদের জন্য কী করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন, ভিক্ষুকদের জন্য সরকারের তো একটা প্রকল্প আছেই। আমাদের কাছে সরকারের সেই টিআর প্রকল্পের চাল বরাদ্দ আছে। আমরা কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সেটা বিতরণ করব। তবে সেটা নির্ভর করবে তারা এলাকায় আছে কি-না তার ওপর। কারণ ভিক্ষুকরা তো সাধারণত এক এলাকায় থাকে না। শহরে থাকলে হয়তো তারা সেটা পাবে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘ সরকার আমাদের এখানে ২০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এটা উপজেলা পর্যায়েও আছে। এ প্রকল্পের আওতায় আমরা অভাবগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে তা বিতরণের ব্যবস্থা করছি।’

দেশের এমন মহামারিতে ভিক্ষুকদের বিষয়ে প্রশাসনের ‘দায়সারা’ অবস্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা। 

এ বিষয়ে  বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডেপুটি গভর্নর আমিনুল হক বাবু বলেন, ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসনে মূল দায়িত্বটা আসলে রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রীয়ভাবে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে অথবা লঙ্গরখানা খুলে তাদের সাপোর্ট দেওয়া যায়।  এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, প্রচার কম থাকলে বিত্তশালীরা সমাজসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে চান না। তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেশের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা উচিত।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads