শিগগিরই দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান: ওয়াসার এমডি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ আপডেট: ১০:০৫

শিগগিরই দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান: ওয়াসার এমডি

শিগগিরই ঢাকা ওয়াসায় দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে জানিয়ে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে আমাদের কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে সামান্য কোন অনৈতিক পন্থার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা ওয়াসার বুড়িগঙ্গা হলে ‘ঢাকা ওয়াসা’র গত ১০ বছরের অর্জন ও আগামী ৩ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

ওয়াসার এমডি হিসেবে নানা বিতর্কের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তাকসিম খান বলেন, ‘গত দশ বছরে যে অর্জনটা হয়েছে, নিশ্চয়ই সরকার চায় সাফল্য। সাফল্য হয়েছে। এই আলোচনা-সমাচলনা কারণ হচ্ছে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগছে, আমাদের কর্মকাণ্ডের দ্বারা যাদের অনৈতিক কর্মকানণ্ড, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বাধা গ্রস্থ হয়েছে তারা সামগ্রীকভাবে এই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসা রাজধানীতে একটি জরিপ চালিয়েছে। সেই জরিপে দেখা গেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পানি বাসা বাড়ির ট্যাংকি পরিষ্কার না করার কারণে দূষিত হয়েছে বা জীবাণু পাওয়া গেছে। আবার অনেক সময় পাইপ লাইনের মাধ্যমে দূষিত পানি ঢুকে গেছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে নানারকম কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে রাজধানীতে দৈনিক পানির চাহিদা ২৪৫ থেকে ২৫০ কোটি লিটার। আর ওয়াসার উৎপাদন ও সরবরাহ ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি লিটার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০০৯-১০ সালে ডিজিটাল ওয়াসা গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করি। ১১ বছর পর আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, তার চাইতে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের উৎপাদন প্রতিদিন ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি লিটার। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। দুই কোটি মানুষকে পানির সুবিধা দেওয়া পাহাড় সমান কাজ।‘

আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে এবং শতকরা ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ পানির উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ওয়াসা কাজ করছে জানিয়ে এমডি তাকসিম বলেন, ‘২০১০ সালে ঢাকা ওয়াসার সিস্টেম লসের পরিমাণ ছিল ৪০ শতাংশ। বর্তমানে সিস্টেম লসের পরিমাণ ২০ শতাংশ যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। ঢাকা ওয়াসা যে ডিএমএ (ডিভিশন মিটার এরিয়া) সিস্টেম চালু করেছে তাতে ৫ থেকে ৭ পার্সেন্ট সিস্টেম লস রয়েছে। রাজধানীতে ১৪৪টি ডিএমএ এর মধ্যে ৬০ টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৮৪টির বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।’

তিনি জানান, ‘২০০৯-১০ সালে ওয়াসার আয়-ব্যয়ের অনুপাত ছিল দশমিক ৯৫। অর্থাৎ ১০০ টাকা আয় হলে তার ৯৫ টাকা খরচ হয়ে যেত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি অনুযায়ী ১০০ টাকা আয়ের বিপরীতে খরচ ৬৫ টাকা। ওয়াসা বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা আয়ের বিপরীতে খরচ করছে ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা।’

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে কখনো জলাবদ্ধতা হয়নি। হয়েছে জলজট। এক থেকে ছয় ঘণ্টা জলজট হওয়ার পর পানি নেমে গেছে। যখন বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে তখনই সৃষ্টি হয়েছে জলজট। আমরা পাম্পিং করে পানি বের করে দিয়েছি।

করোনাকালীন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করোনার সময় কেউ যখন বের হচ্ছিলো না তখনও ঢাকা ওয়াসা ননস্টপ সার্ভিস দিয়ে গেছে। একটি দিন নয় বরং একটি সময়ের জন্যও পানি বন্ধ করা হয়নি। এর বাইরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতেও যাতে ঢাকা ওয়াসা সফলতার সাথে এগিয়ে যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে।’ 

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমএইচ

bnbd-ads