কলেজছাত্র সোহাগ হত্যা: কিশোর গ্যাং’র কাটার রাসেল ও হৃদয় গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০২:৪৬ আপডেট: ০২:৫৫

কলেজছাত্র সোহাগ হত্যা: কিশোর গ্যাং’র কাটার রাসেল ও হৃদয় গ্রেফতার

রাজধানীর উত্তরখানের রাজবাড়ী এলাকায় কলেজছাত্র মো. সোহাগ হত্যার মূল দুই আসামি ‘কিশোর গ্যাং দি বস’ গ্রুপের প্রধান মাহবুবুল ইসলাম রাসেল ওরফে কাটার রাসেল ও হৃদয়কে গ্রেফতার করেছ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব-১)। গ্রেফতারকৃতরা গ্রেফতার এড়াতে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকবার স্থান পরিবর্তন করেছিলো। এছাড়া তারা দেশ ছাড়ারও পরিকল্পনা করেছিলো।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল এসব তথ্য জানান। 

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ‘উত্তরা এলাকায় কাটার রাসেল 'দি বস' নামের একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলো। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখার জন্য ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল গড়ে তুলেছে। তাদের এমন চলাফেরাযর কারণে স্থানীয়রা তাদেরকে এড়িয়ে চলতো। স্থানীয়দের এমন এড়িয়ে চলাকে তারা নিজেদেরকে ক্ষমতাবান মনে করে।’ 

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন রিকশার চাকা থেকে ময়লা পানি শরীরে লাগাকে কেন্দ্র করে রিকশা চালককে মারধর করছিলো। এ সময় নিহত সোহাগ ওই রিকশার যাত্রী ছিলো। ফলে সাধারণ বিষয় নিয়ে রিকশা চালককে মারধর করায় প্রতিবাদ করেন সোহাগ। ফলে এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল তার গ্রুপের নাদিম, সানি, মেহেদী, সাদ, সাব্বিরকে ডেকে নিয়ে এসে সোহাগকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে সোহাগের পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। পরে স্থানীরা সোহাগকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃতঘোষণা করে। এই ঘটনার পরে রাসেল ও হৃদয় নিজেরা আত্মগোপনে যাওয়ার পাশাপাশি তার দলের অন্য সদস্যদের আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করে।’ 

এছাড়া পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে হৃদয় ও রাসেল দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলো।

শাফী উল্লাহ বুলবুল আরও বলেন, ‘কাটার রাসেল ও হৃদয় অত্যন্ত ধুরন্ধর। তারা বিদেশি অপরাধবিষয়ক টিভি নাটক দেখে পুলিশের হাতে গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করছিলো। এমনকি তারা মোবাইল বা অন্য প্রযুক্তি যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত ছিলো। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় তারা বারবার স্থান পরিবর্তন করছিলো। ফলে তাদের ধরতে র‍্যাবের গোয়েন্দা সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। এমন কি আমাদের র‍্যাব সদস্যরা প্রযুক্তির বাহিরে মেনুয়্যালি পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়েছে।’

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮ টার ছুরিকাঘাতে নিহত হয় সোহাগ। ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই মেহেদী হাসান সাগর বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মাহবুবুল ইসলাম রাসেল ওরফে কাটার রাসেল, হৃদয়, সাদ, সাব্বির হোসেন ও সানির নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর 

bnbd-ads