তিতুমীর কলেজে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নারী হেনস্তার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২১, বুধবার
প্রকাশিত: ০১:৪০ আপডেট: ০৫:৩৪

তিতুমীর কলেজে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নারী হেনস্তার অভিযোগ

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের সামনে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। হেনস্তার শিকার ঐ শিক্ষার্থী তিতুমীর কলেজের ১৯-২০ সেশনের ছাত্রী।

জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে রক্তদান করে বাসায় ফিরছিলেন ভিক্টিম ও তার বন্ধু। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বাস থেকে তিতুমীর কলেজের সামনে নামার সময় পায়ে আঘাত পান ঐ শিক্ষার্থী। বাস থেকে নেমে তিনি তিতুমীর কলেজগেট সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে তার বন্ধুকে পাশে রেখে পায়ের আঘাত দেখতে থাকেন। 

এ সময় কয়েকজন বখাটে এসে তাদেরকে বিরক্ত করতে থাকে। ঘটনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর সাথে থাকা বন্ধুকে একপাশে টেনে নিয়ে যায় বখাটেরা। এবং তার সাথে থাকা মানিব্যাগ এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরে ফোনে ঐ শিক্ষার্থীর মা'কে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে ফোনটি ফেরত দেয়। এসময় বখাটেরা ঐ শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। 

শুরুতে অভিযুক্ত কাউকে চিনতে না পারলেও পরবর্তীতে ছবি দেখে সাব্বির এবং জনি নামে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থী। সাব্বির এবং জনি দুজনেই তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। 

এসব বিষয়ে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রিপন মিয়া'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে যদি কেউ কোনো অপকর্ম করে থাকে তাহলে এর দায় ছাত্রলীগ নিবে কেন? ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের সভাপতি হওয়ায় ক্যাম্পাসের অনেকেই আমার সাথে ছবি তুলে তার মানে এই না যে তারা ছাত্রলীগের কর্মী। এরপরও অভিযুক্ত কেউ যদি ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।

ছাত্রলীগ না করেও যদি কেউ ছাত্রলীগ পরিচয়ে কোনো অপকর্ম করে থাকে তাহলে ছাত্রলীগের অবস্থান কি হবে? এমন প্রশ্নে রিপন মিয়া বলেন, অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো। করোনাকালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় কলেজে ছাত্রলীগের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই বলেও জানান ছাত্রলীগ সভাপতি। 

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে সাংবাদিক পরিচয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে জানান।

এসব বিষয়ে তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফ হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কলেজ সময়ের বাইরে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে যদি কেউ এরকম ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে তো আর আমাদের কিছু করার থাকে না। তারপরেও তিতুমীর কলেজের কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এরকম কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা আমাদের একাডেমিক কাউন্সিলে বসে তাদের বিরুদ্ধে একাডেমিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এর বাইরে আমাদের আর কিছু করার নেই।

ব্রেকিংনিউজ/নিহে

bnbd-ads