সুবর্ণজয়ন্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

উর্মি আকতার
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৭:৩৩ আপডেট: ১১:৪৮

সুবর্ণজয়ন্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে (জাবি) বলা হয় দেশের সাংস্কৃতির রাজধানী।  কেউ বলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য-ভূস্বর্গের লীলাভূমি।  ক্যাম্পাসের চিরসবুজ প্রকৃতিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি কয়েকশ’ প্রজাতির গাছ।  আম, কাঁঠাল, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, বহেরা, সেগুন, পলাশ, ছাতিম ছাড়াও অসংখ্য বাহারী ফুলের গাছ। 

মন যদি খারাপ হয় তাহলে চলে যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।  ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মন ভরিয়ে দেবে।  আহা শীতকালে সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখির কলতানের অপরুপ দৃশ্য! শুধু কী তাই? রাজধানীর অদূরে দেশের একমাত্র আবাসিক এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা কারণে আলোচিত।  আজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ হলো পঞ্চাশ বছর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গত ৫০ বছর ধরে শিক্ষা বিস্তারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।  দেশের রাজনীতি ও সমাজ-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।  অসংখ্য শিক্ষার্থী এখান থেকে ডিগ্রী অর্জন করে আলোকিত হয়েছেন।  আলো ছড়িয়ে চলেছেন দেশ-বিদেশে।  এখানকার অনেক ছাত্র আজ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক-বীমা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বিশ্ব বিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে এটির নতুন নামকরণ করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।  ঢাকা শহরের মুঘল আমলের নাম ‘জাহাঙ্গীরনগর’ থেকে এই নামকরণ করা হয়।  বাংলাদেশের প্রথম নৃবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।  বাংলাদেশের একমাত্র প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।  শুরুতে দুইটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা করলেও পরের বছর কলা ও মানবিকী অনুষদ খোলা হয়।  প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন ছাত্র নিয়ে ৪ টি বিভাগ চালু হয়; বিভাগগুলো হচ্ছে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান।

১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেন।  তার আগে ১৯৭০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন অধ্যাপক মফিজ উদ্দিন।  পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রখ্যাত কবি সৈয়দ আলী আহসান, লোকসাহিত্যবিদ মজহারুল ইসলাম, লেখক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আ ফ ম কামালউদ্দিন, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ আব্দুল বায়েস, আলাউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান প্রমুখ।  বর্তমানে ভিসির দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।  এখন পর্যন্ত মোট ১৮ জন ভিসি এখানে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

২০১৪ সালের ১৪ মার্চ প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।  তারই হাত ধরে এগিয়ে চলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ, যেখানে দশতলা বিশিষ্ট ছয়টি আবাসিক হলের নির্মাণকাজ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট হলের সংখ্যা দাঁড়াবে বাইশে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন অধ্যাপক সুনীল কুমার মুখোপাধ্যায়, লেখক হায়াত্ মামুদ, লেখক হুমায়ুন আজাদ, নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি মোহাম্মদ রফিক (সদ্য অবসরপ্রাপ্ত), অধ্যাপক মুস্তাফা নূরুল ইসলাম, আবু রুশদ মতিনউদ্দিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ইতিহাসবিদ বজলুর রহমান খান, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আনু মুহাম্মদ প্রমুখ।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেলিম আল দীন, হুমায়ুন ফরিদী, শহীদুজ্জামান সেলিম, আবদুল্লাহ আল মামুন,ড. সৌমিত্র শেখর,ড. শরীফ এনামুল কবির, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিমসহ বহু দেশবরেণ্য ব্যাক্তি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে বিখ্যাত স্থপতি হামিদুজ্জামান খানের নকশায় মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’। আর প্রধান ফটক হয়ে একটু সামনে এগোলেই দেখা যাবে ‘অমর একুশে’ ভাস্কর্য।  

ব্রেকিংনিউজ/উর্মি/এসপি 

bnbd-ads