অডিও ফাঁসের বছর পার, অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি নেই

ইবি প্রতিনিধি
৫ জুলাই ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৬:২১

অডিও ফাঁসের বছর পার, অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি নেই

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আজীবন কালো তালিকাভুক্ত হওয়া ওবং নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের শাস্তি হয়নি বছরের পর বছর পার হলেও। তথ্য গোপন করে আপন ভাইকে নিয়োগ দিতে গিয়ে আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন তিনি এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কর্মকাণ্ডে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর বার্তা প্রেরণ করা হয়। বার্তা প্রেরণের দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এ বছরের গত ৭ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ড. মাহবুবুল আরফিনকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। নামকাওয়াস্ত কারণ দর্শানোর নোটিশেই দায় সারা কাজ করছে প্রশাসন।               

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. হুমায়ুন কবীর সূত্রে জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরেফিন। ওই বোর্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার উচলিয়া পারা (বড়বাড়ী) সরাইল এর মৃত শহিদুল ইসলাম এর ছেলে ড. দেলোয়ার হোসেন। তার রোল নম্বর-  LHRM-61। তিনি ইবির হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ হতে ২০০৩ সালে অনার্স (২.৭৫) এবং বেসরকারী আশা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ২০১২ সালে মাস্টার্স(৩.৭৩) ডিগ্রী অর্জন করেন।

ড. আরেফিন নিয়োগ বোর্ডের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে দেলোয়ারকে লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ করান। মৌখিক পরীক্ষায় কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলেও বোর্ডকে প্রভাবিত করে তাকে নিয়োগ দিতে চাপ দিতে থাকেন কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান কোনভাবেই অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে সম্মত না হলে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানাজানি হলে ক্যাম্পাস এবং স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগীয় শিক্ষকদের নজরে আসে।

অধ্যাপক মাহবুবুল আরেফিন তথ্য গোপন করে বোর্ডকে প্রভাবিত করে তার নিজের ভাইকে নিয়োগ দেয়ার সব ধরনের অপচেষ্টা করায় হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মাসুদ রানা অনুষদীয় ডীনের মাধ্যমে লিখিতভাবে অধ্যাপক মাহবুবুল আরফিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন।

তদন্ত শেষে জানা যায়, ড.দেলোয়ার অধ্যাপক আরিফিনের আপন ভ্রাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুসারে কোন শিক্ষকের নিকট আত্নীয় পরীক্ষায় অংশ নিলে তিনি ওই পরীক্ষার কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারবেন না, নিয়োগ বোর্ডেও নয়।
তদন্তের প্রেক্ষিতে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬২তম সিন্ডিকেট গত ৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ তথ্য গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিষয়টি গর্হিত অন্যায় ও নৈতিকতা বিরোধী অপরাধী চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞ সদস্য হতে অপসারণ ও আজীবনের জন্য দুর্নীতিবাজ শিক্ষককে কালো তালিকাভুক্ত করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কর্মকাণ্ডে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, চিঠি প্রাপ্তির পর ড. মাহবুবুল আরফিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবস্থাগ্রহণ স্থগিত আছে। তার মানে এই নয় যে ব্যবস্থাগ্রহণ হবে না।  

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালের জুনে এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়। একই বছরের ২১জুলাই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads