না ফেরার দেশে ‘জীবন্ত শহীদ’ ড. মজিবুর রহমান

রাবি সংবাদদাতা
১৯ মে ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:২১

না ফেরার দেশে ‘জীবন্ত শহীদ’ ড. মজিবুর রহমান

না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের ‘জীবন্ত শহীদ বুদ্ধিজীবী’ খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক। একুশে পদক পান তিনি। 

সোমবার (১৯ মে) বার্ধক্যজনিত কারণে জয়পুরহাটের মহুরুল গ্রামে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি জয়পুরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ড. মজিবুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর করাচির সেন্ট্রাল সরকারি কলেজে যোগদানের মাধ্যমে তার অধ্যাপনা জীবনের শুরু। 

১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফলিত গণিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করে করাচির নাজিমাবাদ কলেজে যোগ দেন। পরে তিনি ১৯৬৭ সালের ১৬ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে সিনিয়র লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৭১ সালের ১০ মে মজিবর রহমান তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্রতা নষ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আর্মিদের ক্যাম্পে পরিণত করবার জন্য একটি ইংরেজিতে প্রতিবাদ লিপি দেন। প্রতিবাদের কারণে ১২ মে এ প্রতিবাদী অধ্যাপককে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ক্যাম্পাস থেকে ধরে নিয়ে যায়। রাজশাহী, পাবনা ও নাটোর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে প্রায় চারমাস ধরে তাঁর উপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি তাঁর। বেঁচে থাকলেও অনেকটা স্মৃতি বিভ্রম, যেন জীবন্ত শহীদ অর্থাৎ জীবিত থেকেও মৃত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এভাবেই বেঁচে ছিলেন।

জাতীয় অধ্যাপক ও ইতিহাসবিদ সালাহউদ্দিন আহমেদের (তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন) একান্ত চেষ্টায় শহীদদের পরিবারকে দেওয়া সুযোগ-সুবিধা অধ্যাপক মজিবর রহমান দেবদাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এ মর্মে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে থেকেই তাকে আখ্যায়িত করা হয় ‘জীবন্ত শহীদ’ বলে।

স্বাধীনতা লাভের ৪৩ বছর পর ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

bnbd-ads