ঈদের পরে পরীক্ষায় বসবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়

মো. রাকিবুল হাসান, গবি প্রতিনিধি
১৩ মে ২০২০, বুধবার
প্রকাশিত: ০৭:২৩

ঈদের পরে পরীক্ষায় বসবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়

অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ১৫ জুন পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস করবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার (১৩ মে) অনলাইন ক্লাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্তুজা আলী বাবু।

তিনি বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার হয়নি৷ ঈদের পরে এই বিষয়ে বসবো আমরা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, যে বিভাগে শিক্ষার্থীদের ক্লাস উপস্থিত কম রয়েছে। অথবা ক্লাস কম নেওয়া হয়েছে। সেই ক্লাস গুলো আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। যদি কোনো শিক্ষকের ক্লাস ও কোর্স শেষ হয়ে যায়। তবে তিনি রিভিশন ক্লাস নিবেন।

সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে দুইটা অপশন আছে। প্রথমত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হলে; দ্বিতীয়ত অনলাইনে। আমরা দুইটা অপশনই আলোচনা করেছি। তবে ঈদের পরে আবার আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবো বলেন-মীর মর্তুজা।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে অনলাইন ব্যাংকিং করা যায় কিনা ভাবছি আমরা। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এরপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন থেকে ভর্তি অফিস খোলা থাকবে।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দেলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্ত্তজা আলী বাবু, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মনসুর মুসা, ভৌত ও গাণিতিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর হাসিন অনুপমা আজহারী, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ইকবাল হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. তাসাদ্দুক আহমেদ, ডেপুটি ডিরেক্টর ফাইন্যান্স মো. আব্দুল কাদের, সিনিয়র সহকারী রেজিস্ট্রার আবু মুহাম্মদ মুকাম্মেল প্রমুখ।

করোনা পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়। এসময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। শহরের তুলনায় গ্রামের শিক্ষার্থী বেশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনলাইনে ক্লাস কতটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায় একটা দুইটা কোর্স ছাড়া প্রায় সকল কোর্সের অনলাইন ক্লাসে উপস্থিতি ৬০% এর বেশি। এছাড়া ২২ মার্চ পূর্ববর্তী সময়ে ক্লাস সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৬৫%। করোনা পূর্ববর্তী সময়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের তো রোজার মধ্যেই সেমিস্টার ফাইনাল হওয়ার কথা ছিলো। সেক্ষেত্রে ক্লাস তো কম বা পিছিয়ে থাকার কথা নয়। তারপরেও পরীক্ষা বিষয়ে আমরা ঈদের পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবো।

জানা যায়, চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী অনুষদে ৫০-৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন৷ তবে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগ গুলোতে বেশি শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত হতে পারছেন না।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads