কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী আজ

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
৮ মে ২০২০, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ আপডেট: ০৯:২০

কবিগুরুর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী আজ

বাংলা সাহিত্যের অমর কবি, কবিকুল শিরোমণি কবিগুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী আজ। আজ ২৫ বৈশাখ। প্রতি বছর এ দিনটিতে দেশের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে নানা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তবে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ঘরে বসেই কবির রচিত সেই ‘হে নূতন’ গানখানি আমরা গাইতে গাইতে কবির পৃথিবীতে আগমনকে ব্যক্ত করতে পারি। 

বাঙালি জাতীয়তাবাদের পথিকৃত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ সৃষ্টি জীবনে নিজের জন্ম নিয়ে তেমন কোনও গান কিংবা কবিতা রচনা করেননি। শুধুমাত্র ‘হে নূতন’ গানটিতে তিনি তাঁর জন্মক্ষণকে স্মরণ করেছেন। 

যে গানের কথামালায় তিনি বলেছেন- ‘হে নূতন, দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ।।/তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন/ সূর্যের মতন।/ রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন।/উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে/মোর চিত্তমাঝে/চির-নূতনেরে দিল ডাক/পঁচিশে বৈশাখ।’

বাংলা ও বাঙালির মানসপটে চির বিরাজমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অজস্র গান, কবিতা, গল্প-উপন্যাস আজও প্রতিনিয়ত ব্যাকুল মনকে শান্ত করে। মানুষের মনে নতুন করে সৃষ্টির সাহজ জোগায়। বাঙালি জীবনের এমন কোনও ভাব-বৈচিত্র্য নেই যা কবিগুরুর লেখনিতে উঠে আসেনি। সুরে আর কাব্যে মানুষের হৃদয়ের কথাগুলোর বারবার উচ্চারিত হয়েছে তাঁর লেখনিতে। কবিগুরুর সাহিত্যকর্ম, সঙ্গীত, জীবনদর্শন, মানবতা, ভাবনা- সবকিছুই আমাদেরকে সত্যিকারের বাঙালি হয়ে উঠতে সদা অনুপ্রাণিত করে।

রবি ঠাকুরের ১৫৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলা সাহিত্যের যুগান্তকারী ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (বাংলা-পঁচিশে বৈশাখ-১২৬৮) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের বাইশে শ্রাবণ (ইংরেজি ৭ আগস্ট-১৯৪১) কলকাতায় পৈত্রিক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী-গল্পকার। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্ববোধিনী’ পত্রিকায় তার প্রথম লেখা কবিতা ‘অভিলাষ’ প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সৃষ্টিশীল লেখক ও সাহিত্যিক হিসেবে সমসাময়িক বিশ্বে তিনি খ্যাতিলাভ করেন। 

লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনুদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। ১৮৭৮ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয়। এ সময় থেকেই কবির বিভিন্ন ঘরানার লেখা দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পেতে থাকে। 
 
১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস শুরু করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, পাবনা, নাটোরে এবং উরিষ্যায় জমিদারিগুলো তদারকি শুরু করেন কবি। শিলাইদহে তিনি দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। এখানে জমিদার বাড়িতে তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন। 

১৯০১ সালে শিলাইদহ থেকে সপরিবারে কবি বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান। তিনি জীবনে ১২ বার বিশ্বভ্রমণ করেন। ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত পাঁচটি মহাদেশের ত্রিশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন কবিগুরু।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল উদযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ডিজিটালি প্রচারের জন্য একটি অনুষ্ঠান ধারণ করছে। অনুষ্ঠানটি আজ সকাল ১০টায় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার হবে।

তবে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ওই আসে মহামানব’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন সকাল ৯টায় ছায়ানটের ইউটিউব চ্যানেলে এটি দেখা যাবে। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা করেছেন ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন। http:/ww/w.bit.ly/chhayanaut ঠিকানায় আয়োজনটি উপভোগ করা যাবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads