অথই নীড়-এর একগুচ্ছ কবিতা

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:১১ আপডেট: ০৫:১৬

অথই নীড়-এর একগুচ্ছ কবিতা
ছবি: প্রতীকী

.......

ঘুঘু পাখির ঠোঁট দুপুরের বৃষ্টিতে ভিজে যায়।
ধূসর ডানায় জীবন লুকিয়ে দিয়ে সবুজ হয়ে ওঠে পাখি।পাতার নিচে অন্ধকার জমে,টিনের চালে বৃষ্টি গান গায়।ঘুঘু পাখি একা বসে প্রজাপতি দেখে,দেখে চালতা ফুলের ঝরে যাওয়া।
লাল ওড়নায় ঘুঘু পাখি নদী ডেকে আনে।চায়ের চুমুকে মাতাল হয় দুপুর।খোল-করতাল আর পাতাবাহারের ফুলে বৃষ্টি জমে থাকে।
মেহগনি বৃক্ষ লাল রঙে বঙ্গ-সমতটের চিত্র আঁকে।
হৃদয় বিদীর্ণ করে বাঁশি বলে চলে-
হাজার বছরের এতো বিষণ্নতা কোথায় রাখি...

.......

চৈত্রের পূর্ণিমায় পুড়ছে রাত।
বাতাসে দুলছে নিঃসঙ্গ শহর।নিঃসঙ্গ মানুষের মন।ফাঁকা রাস্তার পিচ।গন্ধরাজ ফোটা দিন গুলো স্মৃতির চড়ুইভাতি।
অগুণতি তারার নিচে আমি কেবল যন্ত্রণা দেখি।আর গিলে খাওয়া শূণ্যতা।
চৈত্রের ভাঁটফুল মাটির ঘর আঁকে।তামার পৃথিবী তোমার-আমার।
প্রিয়তম দিন এভাবেই শূন্য হয়ে যায়।শূন্য হয়ে যায় রুপোর গ্লাস,প্রিয় চোখ।
মৃত্যু খাওয়া মানুষ গুলো তবু মাঝরাত জুড়ে লিখছে-
এসো চেনা পথে আঙুলে আঙুল রাখি।

.......
একা থাকার মুদ্রা ভাঙি অন্ধকারে।সকাল নামে,সন্ধ্যা নামে।নীল কালিতে জীবনের পাঠশালা,বাহারি জীবন।বাতাসের গায়ে মৃত্যুর চোখ,কাকেদের মিছিল।
কলার ভেলায় আমড়া ফুলের ঢেউ।ঝড়ে উড়ে গেছে বাবুইপাখির ঘর।পোকাদের সংসার।
পাতারা এখন সবুজ,ধীর,শান্ত-
রঙ্গন গাছে আবার ফুল আসে,জীবন আসে।
ভাঙনের পথ ধরে তবু সাদা পাতা উড়ে গেছে,ছিঁড়ে গেছে।
ওপারে ঘাস ফুলেদের উৎসব,নদীর মরমী গানে সন্ধ্যা আসে,মাটির প্রদীপে জ্বলে ওঠে বাড়ি ফেরার পথ।
যে পথে জঙ ধরে আছে কতোকাল।হায় জীবন...

.......

বঙ্গ সমতটে আমাদের বাড়ি।
তালপাতায় আজো লিখি ইতিহাস।
কানে কানে শিস্ দেয় দূরের হাওয়া।
ঘুণ পোকাতো কবেই খেয়ে গেছে বুকের হাড়।

আষাঢ় এলেই জন্মকথা ধুঁয়ে দেয় বৃষ্টি।
কংসের পাড় জুড়ে কেউ আর জেগে থাকে না।
জলপাইপাতায় আদরে ঠোঁট আঁকেনা ঘুঘু পাখি।
বোনের হাতের নক্সীকাঁথায় অসময়েই শীত নামে।

বুকের মাঝখানে কাটাতারের সীমানা।
ওপারে ভোররাত জেগে এক সরীসৃপ ঘুমায়।
মুখস্ত শ্লোকে আমিই পৌরাণিক ইতিহাস।
চোখের পাতায় নদী নামিয়ে ডুবিয়ে দেই রাত।
তুই ফুলের দেশের রাজপুত্র হয়ে যা।

.......

চৈত্রের দুপুর গুলো খুব এলোমেলো।একঘেয়ে।
একা থাকা মানুষ চড়ুইপাখির সংসারে প্রেম খোঁজে।
পাশের ছাদের লেবুপাতার গন্ধ এসে রাত গুলো ভাসিয়ে দেয়।
যে দূরে ঠেলে দেয় তার বুকেও তো ভালোবাসা আছে।
আমি মৃত্যু খাওয়া মানুষ।
জানলা খুলে দিয়ে বারবার স্বপ্নে দেখি।
ক্লান্তি গুলো জমা থাকে ঠোঁটের কোণে।

.......

মানুষ গুলো সব গুম হয়ে যাচ্ছে।
উৎসবের আঙিনা জুড়ে মৃত্যুর মহোৎসব।
পাতাদের দলে সন্ধ্যা নামার গানে কেমন শূন্যতা।
মানুষ গুলো সব একা হয়ে যাচ্ছে।
চড়ুইপাখির সংসারের মতো লুকিয়ে রাখছে চোখ,প্রিয় উষ্ণতা।লুকিয়ে রাখছে শিশুর নরম ঠোঁট।আঙুলের ছোঁয়া।
হায়,তবু যদি মৃত্যু মুছে দেওয়া যেতো।

.......

তারপর রাত নেমে আসে।
বসন্তও এক সময় ফুরিয়ে যায়।
তোমার-আমার কথা জমা থাকে বুকের গভীরে কোথাও।
ভাঁটফুলের গন্ধ লেগে থাকে শরীরে।
দূরের দিনগুলো কেমন বালিকা হয়ে গেছে।
একজীবন,ফেলে আসা দীর্ঘশ্বাসও শেষ হয়ে আসে।
দূরে থেকেও ভালো থাকি তুমি-আমি।।
হঠাৎ আঙুল গুলো কেঁপে ওঠে কেবল।।

.......

ফাল্গুনের মাঝরাতে গলে পড়ছে জ্যোৎস্না।
চাঁদের রঙ চোখে তুলে রাখি,মুঠো ভরে রাখি,শরীর ভরে রাখি।
বুকের উঠোন জুড়ে জেগে থাকে কেউ।সম্পর্কের ভিড় দূরে ঠেলে দেয় তাকে।
জ্যোৎস্নায় ভিজতে ভিজতেও দেখি-যুবকের খোলা পিঠ ভালো লাগে।
ফুল ফোটা সন্ধ্যায় ভালোবাসা লুকিয়ে সেও কবে ফিরে গেছে।
আমার যে একাকিত্ব প্রিয় তা কি আজো তুমি টের পাও।

.......

১.
গভীর হয়ে আসে কুয়াশা মোড়া রাত।রাতের পাখি ঘুম কেনো আসে না রে।কংসের পাড় ধরে একদিন আমিও তোর সাথে দেবো উড়াল।সমস্ত অভিমান ভেসে যাবে বিশাল আকাশে।চাপা কষ্ট গুলো ভাসবে মেঘ হয়ে।সেদিন আমাকে খুঁজলেও তুমি পাবেনা।আমাকে কখনো মনে পড়লে ভেবে নিও একাকিত্বই আমার উৎসব।দূরে থাকা মানুষ ঢের ভালো থাকে।জীবন থেমে থাকে না।এক জীবনে বহুবার প্রেম আসে যায়।আঙুলে আঙুল ছোঁয়ায় দিন গুলো নিয়ে বেঁচে রইবো আমি।যত্ন করে ভুলে যেও আমি কেউ ছিলাম তোমার।
২.
নিজেকে ভেঙে চুরে বারবার তোমার কাছেই ‍ফিরে গেছি।আমাকে নির্বাসন দিয়ে তুমি তো বেশ আছো।ভালোবাসা কেবল সময়ের খেলা,অঢেল প্রতারণা। দূরত্বের পাহাড় ছুঁয়ে দিয়ে আজ আমি দারুণ একা। শীতের রাত গুলো রাস্তার পিচে চোখের জল ঢেলে দেয়।দীর্ঘশ্বাস গুলো দূরের বসন্ত ছুঁয়ে দেয়....

.......

ফাঁকা রেল লাইনে শীত জমে আছে।বিলের নিঃসঙ্গ বক ঠোঁটে করে কাগজ কুঁড়াতে আসে। কচি ধানের চারা কৃষককে ভরে দেবে ফসলে।আমি হাসি গুলো রেখে এসেছি অজস্র কাশের দোল খাওয়া ধূসর পাতায়।মায়া ভরা চোখে কতোকালের ক্লান্তি ভিড় করে আছে।
যাত্রিদের চোখে ঘুমের সরোবর।প্রিয়তম দিন খেলে যায়।ভাঙাচোরা সম্পর্ক নিয়ে গাঁদা ফুলের বাগানে রঙের ভিড়।
অদ্ভূত মানুষের মন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads