নতুন ধান চাষে সফল কৃষক ইন্তা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০২০, রবিবার
প্রকাশিত: ০৪:২১ আপডেট: ০৪:২৩

নতুন ধান চাষে সফল কৃষক ইন্তা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ইমদাদুল হক ইন্তা নামের এক কৃষক ভিন্ন জাতের নতুন এক ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তার নতুন জাতের এ ধান এলাকায় কৃষকদের মধ্যে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। প্রতিদিন এলাকার কৃষকরা তার ধান দেখতে আসছে। বিজাতীয় ধানের সাথে অন্য জাতের ধানের পরাগয়ানের মাধ্যমে নতুন জাতের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন বলে দাবি করছেন ওই কৃষক। তার সংরক্ষিত নতুন জাতের এ ধানের নাম দিয়েছেন তোহামনি।

তোহামনির ফলন দেশে চাষ হওয়া অন্য জাতের থেকে বেশি বলেও দাবি করেছেন এই কৃষক। চলতি আমন মৌসুমে তিনি সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। এ ছাড়া একই এলাকার আরো দুই কৃষক দেড় বিঘা জমিতে এ নতুন জাতের ধান চাষ করেছেন। এর আগে গেল বছর ইরি বোরো মৌসুমে ৯ শতক জমিতে তোহামনি ধানের চাষ করে ১০ মণ ৭ কেজি ধান পেয়েছিলেন। সেখান থেকে একমন ধানের বীজ রেখে বাকি ধান চাল করে খাচ্ছেন।

 ইমদাদুল হক কালীগঞ্জ উপজেলার মেগুরখিদ্দা গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মন্ডলের ছেলে। কৃষক ইমদাদুল হক আগে পেশায় সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী ছিলেন। 

কৃষক ইমদাদুলের দাবি, তিনি পরাগায়নের মাধ্যমে বিজাতীয় ধান থেকে নতুন জাতে ধান উদ্ভাবন করেছেন। তবে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি নিয়ম না মেনে কৃষক পর্যায়ে পরাগয়ানের মাধ্যমে ধানের জাত পরিবর্তন একেবারেই
অসম্ভব। ধানের জাত উন্নয়ন করতে হলে বৈজ্ঞানিক কিছু প্রক্রিয়া আছে যা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। ইমদাদুলের ধানের আকার মাঝারি চিকুন। একটি ধানের শীষে ৪২০ থেকে ৪৫০ টি ধান হয়। এরমধ্যে ৬০ থেকে ৮০টি ধান অপুষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু দেশে চাষ হওয়া অন্য জাতের ধানে ২৫০ থেকে ৩০০টি ধান থাকে। এ ছাড়া তোহামনি ধান গাছের উচ্চতা মৌসুম ভেদে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার ফুট উঁচু হয়ে থাকে। ইরি মৌমুমে এই ধানের জীবনকাল ১৫০ দিন এবং আমন মৌসুমে ১২০ থেকে ১৩০ দিন।

কৃষক ইমদাদুল হক জানান, ২০১৫ সালের কথা। আমার ধানের ক্ষেতে বিজাতীয় একটি ধান গাছ থেকে ছয়টি ধানের শীষ সংগ্রহ করি। পরে সুবল লতা ধানের সাথে ৪০ গোছ ধানের চারা রোপন করে পরাগয়ানের পর আবার সংগ্রহ করি। পরের বছর বাসমতি ধানের আবার ৪০ গোছ ধানের চারা রোপন করে সংগ্রহ করেন। এরপরের মৌসুমে এক গোন্ডা জমিতে এই ধানের চারা রোপন করে বীজ সংগ্রহ করি। ২০১৯ সালে ইরি বোরো মৌসুমে ৯ শতক জমিতে ধান রোপন করেন। এই জমিতে ১০ মন ৭ কেজি ধান পান। চলতি আমন মৌসুমে সেই বীজ থেকে সাড়ে ৩ বিঘা জমি চাষ করেছেন। দু’এক দিনের মধ্যে ধান কাটবেন। মাঠে চাষ হওয়া অন্য ধানের থেকে আমার ধানের শীষ বড়, ধানও বেশি। সবার আগে পাক ধরেছে। আশা করি ৩৩ শতকের বিঘা জমিতে ৩০ মন ধানের বেশি হবে।

গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তারুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে ইমদাদুল হক এই ধান নিয়ে কাজ করছেন। এলাকার কেউ তাকে ধান গবেষক বলে রহস্য করতো, কেউ আবার পাগলও বলতো। কিন্তু গেল ইরি মৌসুমে তার ধান দেখে সবাই অবাক। চলতি মৌসুমে সবাই তার ধান দেখতে আসছে। এখন সবাই তার ধান বীজ নেওয়া জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।

 কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস কর্মকর্তা শিকদার মো. মোহায়মেন আক্তার জানান, আমি সংবাদ পেয়ে তার ধান ক্ষেত দেখতে গিয়েছিলাম। জমিতে নিয়ম মেনে চারা রোপন বা সার কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়নি। তারপরও তার ধান চাষ সন্তোষ জনক। ধানের শীষে যে পরিমান ধান রয়েছে তাতে ফলনও সন্তোষ জনক হবে মনে করছি। কিন্তু জাত উন্নয়নের দাবি নিয়ে কিছু বলতে পারবো না। বাংলাদেশ কৃষি ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা আছেন, নিয়ম মেনে চাষ করছে তারা পরবর্তি মৌসুমে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলতে পারবেন জাত উন্নয়ন হয়েছে কিনা বা আদৌ জাত উন্নয়ন সম্ভব কি না।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads