খুলনায় বেড়েছে গবাদি পশু পালন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
১৫ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৩:৫২

খুলনায় বেড়েছে গবাদি পশু পালন

বছরের ব্যবধানে খুলনায় বেড়েছে গবাদি পশু উৎপাদন। প্রতি বছরই খুলনায় গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার উৎপাদন বাড়ছে। অনুকুল পরিবেশ, সহজে গো-খাদ্য যোগান ও বাজারে প্রচুর পরিমাণে মাংসের চাহিদা থাকার কারণে গবাদিপশু পালনে আগ্রহী হচ্ছেন এ অঞ্চলের খামারিরা।

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে খুলনায় গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৫টি। যার মধ্যে গরুর সংখ্যা ১০ লাখ ৭৭ হাজার ৭২১ টি, ছাগলের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩১টি, মহিষের সংখ্যা ২ হাজার ৮৮৫টি ও ভেড়ার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৭৪৮টি। এর আগের অর্থ বছরে গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩০ হাজার ২৩১টি। এ হিসেবে গত বছরের তুলনায় খুলনায় পবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৪টি।

খুলনা জেলার সব থেকে বেশি সংখ্যক গবাদিপশু পালিত হয় তেরখাদা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলায়। আর সব থেকে কম পরিমাণে গবাদিপশু পালিত হয় ফুলতালা উপজেলায়।

তেরখাদা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় বিস্তীর্ণ কৃষি মাঠ রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমানে গো-খাদ্য সহজে পাওয়া যায়। তাই গবাদিপশুর খাবার যোগাড় করতে খামারিদের বাড়তি কোন অর্থ খরচ করতে হয় না। এ কারণে ওই সব এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গবাদিপশু পালন করা হয়।

এছাড়াও জেলার কোন কোন এলাকায় গড়ে উঠেছে আধুনিক সকল সুবিধা সম্বলিত গরুর খামার। যেখানে বাণিজ্যিক ভাবে শত শত গরু ও মহিষ পালন করা হচ্ছে। জেলার সব থেকে বড় গবাদিপশুর বাণিজ্যিক খামারটি ডুমুরিয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে অবস্থিত। খামারটির নাম জম জম অ্যাগ্র ফার্ম। বর্তমানে সেখানে প্রায় দুই শতাধিক গরু রয়েছে।

খামারটির পরিচালক সাকি মোল্লা বলেন, ‘দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গরু আমাদের খামারে রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার কেজি দুধ উৎপাদন হয়। যা স্থানীয় বাজারে পাইকারি ৪০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। এছাড়া মোটা তাজা করণ শেষে বয়স্ক গরু লাইব স্কেলে ওজন পরিমাপ করে বিক্রি করা হয়। গরুর আকারের উপর ভিত্তি করে লাইব স্কেলে পরিমাপ করে ওজন প্রতি ২৭৫ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে খামারটি থেকে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছি। ভবিষ্যতে খামারটি আরও  বর্ধিত করা পরিকল্পনা রয়েছে।

তেরখাদার বারাসাত গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, আমি মাঠে কৃষি কাজ করি। পাশাপাশি আমার ৯ টি গরু ও ১৩ টি ছাগল রয়েছে। কৃষি কাজে সকালে মাঠে যাওয়ার সময় বিলে নিয়ে গরু ছেড়ে দিই, পরে সন্ধ্যায় বাড়িতে নিয়ে আসি। গরু ও ছাগল পালনে আমার বাড়তি কোন খরচ হয় না। আগামী বছর কোরবানিতে ৪ টি গরু বিক্রি করবো। আশা করি প্রত্যেকটি গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা বা তার উপরে দাম পাব।

ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের প্রায় পত্যেকটি পরিবার কৃষির উপর নির্ভারশীল। কৃষি কাজের জন্য মাঠে হাল দিতে গরু বা মহিষের দরকার হয়। তাই প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে ২ টি, ৪টি বা ততোধিক গরু রয়েছে। কৃষি কাজের সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি মোটা অংকে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার কারণে এ গ্রামে প্রচুর পরিমানে গরু পালন করা হয়।’

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার এস এম আউয়াল হক বলেন, ‘অনুকূল পরিবেশ ও বাজারে মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকার কারণে এ অঞ্চলে গবাদিপশু পালন দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কৃষকরা এমনিতে মাঠে চাষ দেওয়ার জন্য গরু পালন করেন। পাশাপাশি অনেক তরুণরা এখন গরুর আধুনিক খামার গড়ে তুলছেন। আমরা খামারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রোগবালায় দমন, মোটা তাজা করণ কৌশল শিখানোসহ যাবতীয় খোঁজ রাখি। আবার ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকায় দেশে এখন গরুর দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই অনেকেই গরুর খামার করছেন। ফলে খামারি এবং উৎপাদন দুটোই বাড়ছে। উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর গবাদিপশুর উৎপাদন আরও বেশি পাবে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads