ময়মনসিংহে প্রভাবশালীর অত্যাচারে কৃষকের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৬ জুন ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৩:৫৬

ময়মনসিংহে প্রভাবশালীর অত্যাচারে কৃষকের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চক শ্যামরামপুরে প্রভাবশালীদের অনবরত অত্যাচারের মুখে অসহায় হয়ে পড়েছে কয়েকটি কৃষক পরিবার। সন্ত্রাসী কায়দায় জবরদখল চালিয়ে লুটপাটসহ নষ্ট করা হয়েছে কয়েক একর জমির ফসল। ফলে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে কৃষকের। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এদিকে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ, মামলা দায়ের করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। উল্টো মামলা তুলে নিতে হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী কৃষক হারুন অর রশিদের অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিনে চক শ্যামরামপুরে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটি ময়মনসিংহ সদরের মধ্যে হলেও যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজেহাল। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্রামটিতে অত্যাচারের রাজত্ব কায়েম করে চলছে প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী মহল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, জবরদখলসহ বিভিন্ন ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় পৃথক একাধিক মামলা ও অভিযোগ হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পেরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলার উর্ধ্বে এ যেন এক ভিন্ন গ্রহ। যেখানে বাদী স্বপরিবারে অনবরত অত্যাচারের শিকার হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কৃষক হারুন অর রশিদের সেচ মটর চুরির দায়ে ধরা পড়ে একই গ্রামের উমেদ আলীর ছেলে নাজিরুল। এ ঘটনায় বিচার শালিশে ধৃত চোরকে মারধর করার দায় এনে উল্টো কৃষক হারুনের কাছ থেকে দুই দফায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেই থেকে একের পর এক অত্যাচারের মুখে রয়েছে কৃষক হারুনের পরিবার।

অভিযোগে আরও জানা যায়, প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময় তাদের বাড়ির কাছে অবস্থিত হারুন গং পরিবারের প্রায় ৭০ একর আবাদি জমির ধান, পাট, পিয়াজ, মরিচ, টমেটো, করলাসহ নানান সবজি লুটপাট ও নষ্ট করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে আসছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক প্রভাবশালী বিবাদীরা নিরিহ পরিবারটির পৃথক জমির ৩৮৪ মন ধান কেটে নষ্ট করে। একইভাবে ৬ একর জমির পাটক্ষেত গরু দিয়ে খাইয়ে নষ্ট করে এবং আড়াই একর জমির মরিচ তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে গত ২৮ মার্চ ইব্রাহিমের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলামকে (১৭), ১৬ এপ্রিল আনিসুর রহমানের ভাতিজা নুরুল হক (১৮), ৬ মে হারুন অর রশিদের ভাতিজা মিজানুর রহমানকে (২৬) মারধর ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার দায়ে পৃথক তিনটি মামলা হয়। কিন্তু আসামিরা রয়েছে ধরাছোয়ার বাহিরে। তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে উল্টো বাদি পক্ষকে মামলা তুলে নিতে প্রকাশ্যে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

অভিযুক্তরা হলেন, ফজলুল হক, মোঃ আঃ করিম, আকরাম, আনারুল ইসলাম আনার, খাইরুল ইসলাম, হালিম, হাবি, কাসেম আলী, নেওয়াজ আলী, জাহের, আব্দুল সাত্তার, রাসেল, তৈয়ব আলী, শাহেদ আলী, ওহাব আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মতিন, আব্দুল লতিফ, ইসরাফিল, উমেদ, নাসির মিয়া, নাজিরুল, নবী, মোজাম্মেল, কাউসার আলী, জুয়েল, সোহেল।

অন্যদিকে থানায় মামলা করায় গত ১৮ এপ্রিল কৃষক হারুনের চাচাতো ভাই কফিলের করলা ক্ষেত, চাচাতো ভাই বাদশার মরিচ ক্ষেত, ভাতিজা আব্দুল করিমের ধানক্ষেত ও পেঁয়াজ ক্ষেত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নষ্ট করার দায়ে উপরে উল্লেখিতদের নামে অভিযোগ দেন হারুন আর রশিদ। পরিবারটি একের পর এক অত্যাচার ও হামলার শিকার হয়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে চলছেন। তবে পাচ্ছেন কোন প্রতিকার।

অসহায় কৃষক হারুন-অর-রশিদ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সকল আবাদি ফসলি জমি প্রতিপক্ষের বাড়ির কাছে হওয়ায় সেখানে আমরা যেতে পারছিনা। এই সুযোগে আমাদের আবাদি ৭০ একর জমির ফসল লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে ওই প্রভাবশালীরা। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার চেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ মোঃ ফিরোজ তালুকদার বলেন, আমি আসার পর বিষয়টি কিছুটা অবগত হয়েছি। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সেখানে অস্থিরতা চলছে। এ ঘটনায় ৫ টি মামলাও হয়েছে। পুলিশ তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আসামিরা এখন জামিনে আছে। তবে সম্প্রতি আরেকটি অভিযোগ পেয়েছি, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইনের উর্ধে কেউ নয়। সঠিক তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।


ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads