গদখালীর ফুলে ভালোবাসার সুবাস

বেনাপোল প্রতিনিধি
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৪:১৭

গদখালীর ফুলে ভালোবাসার সুবাস

দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত। আর ক’দিন পরই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আর এ তিন দিবসগুলোর বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুলের রাজ্য খ্যাত যশোরের গদখালি ও শার্শা এলাকার ফুলচাষিরা।

২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে ১৩ই ফ্রেরুয়ারি বসন্ত বরণ ও ১৪ ফ্রেরুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এই দু’দিনে ফুল বিক্রি অন্যতম উচ্চতায় পৌঁছায় ফুলচাষিদের। এ সময়কে কেন্দ্র করে এখানকার ফুল ব্যবসায়ীদেরও থাকে বিশেষ প্রস্তুতি। ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে পুরো ফ্রেরুয়ারি মাসটি ব্যবসায়ের উৎসব হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, এবার যশোরে পাইকারি পর্যায়ে ৭০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যশোরে প্রায় ৬ হাজার ফুল চাষি দেড় হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষের সাথে সম্পৃক্ত। তার ভেতর সবচেয়ে বেশি চাষ হয় গ্যালোরিয়াস শতকরা ৪০ শতাংশ চাষ করে এখানকার ফুল চাষিরা। তার পরই ২০ শতাংশ চাষ হয় রজনীগন্ধা। গোলাপ ১৫ শতাংশ চাষ হয়। তাদের উৎপাদিত জারবেরা, গাঁদা, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে এখানকার চাষিরা।

সরেজমিনে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি, পানিসারা, নাভারণ, নির্বাসখোলা শার্শার উলাশী এলাকায় দেখা গেছে, জমিতে সেচ প্রদান, গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরানো, সার-কীটনাশক, আগাছা পরিস্কার করাসহ ফুলের আনুসাঙ্গিক পরিচর্যা করছেন চাষিরা। তাদের লক্ষ্য এ মাসের প্রতিটা ফুলের বাজার ধরা।

শার্শার উলাশীর ফুল চাষি দিলদার হোসেন জানান, ফুল চাষে আসা বংশপরম্পরায়। আমার বাবা ফুল চাষ করতেন। এখন আমিও ফুল চাষের সাথে সম্পৃক্ত। আমি ৩ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছি। তার মধ্যে রজনীগন্ধা ১, গোলাপ ১বিঘা ও  জারবেরা ১বিঘা। সামনে ফুলের বড় বাজার তাইতো বাজার ধরতে সকাল-বিকাল ফুলের পরিচর্যা করছি।

গদখালিতে কথা হয় তরুণ ফুল ফুলচাষি আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে তিনি বলেন, ৪ বিঘা গোলাপ, ২ বিঘা জারবেরা ও ১ বিঘা গ্যালোরিয়াস ও রডস্টিক চাষ করেছেন। আমরা গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরিয়ে রাখি, যাতে ফুল একটু দেরি করে ফোটে। বসন্ত দিবস, ভালবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারিতে যাতে ফুল বাজারে দেওয়া যায়। প্রতিটি গোলাপে ক্যাপ পরানোসহ খরচ প্রায় ৪ টাকার মতো। যদি ৭-৮ টাকা বিক্রি করা যায় তাহলে মুনাফা বেশি পাবো বলে আশা করছি। 

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, যশোরের ঝিকরগাছা, শার্শা উপজেলারসহ এ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে গদখালীতে মাত্র ৩০ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু হয়। এখন চাষ হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার ৭০ ভাগই যশোরের গদখালী ও শার্শা থেকে সরবরাহ করা হয়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এই ফুল এখন যাচ্ছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াতেও। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা ফুল কেন্দ্রীক। প্রায় ২০ হাজার কৃষক ফুলচাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে কেবল যশোরেই প্রায় ৬ হাজার ফুলচাষি রয়েছেন। সামনের দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭০ কোটি ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সারাবছর টুকটাক ফুল বিক্রি হলেও মূলত ফ্রেরুয়ারি মাসের উৎসবকে সামনে রেখেই জোরেশোরে এখানকার চাষিরা ফুল চাষ করে থাকেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads